কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
রথ দেখা কলা বেচা
সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP01 | প্রকাশিত: 22 জুন 2025
সময়কাল: 22 মিনিট 21 সেকেন্ড
কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভাষ্য

বাঙালির রথ আসে পাঁপড় ভাজা মড়মড়িয়ে আর জিলিপির রস ঝরঝরিয়ে। ঐতিহ্য না লোকাচার? দূর মশাই, সব এসে মিলে যায় ভিয়েনে বসানো পেল্লাই কড়াইয়ের টগবগে তেলে। রথের দিনে জিলিপি, পাঁপড় ভাজা খাওনি? অ্যাই তুমি বাঙ্গালি তো? অথচ এই দু’টি খাবারের একটির জন্মও সম্ভবত বাংলায় নয়। পাঁপড় এসেছেন খাস সিন্ধমুলুক থেকে, আর জিলিপি আফগানিস্তান থেকে - এমনটাই বলে থাকেন অনেকে। ঋতেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'মুদির দোকান' বইতে কী বলছেন? বলছেন সংস্কৃতে জলবল্লী বলে একরকম মিষ্টির উল্লেখ আছে, তাকে অনেকেই জিলিপি বলে মনে করেন। তবে তাঁর মতে জিলিপির প্রাচীন নাম জলবল্লী নয়, কুন্ডলিকা। জলবল্লী হলো গিয়ে ছানার জিলিপি। কুন্ডলিকাই যথার্থ জিলিপি। যার মধুর প্যাঁচে বাঁধা পড়ে আছে আফগানিস্তান থেকে গঙ্গাহৃদি। এ হেন মিঠাই রাজা রাজড়াকে বশ করে ফেললেও পাবলিক টাচ হারায়নি। নিঃসংকোচে কাগজের ঠোঙায় চেপে জিলিপি যেমন ট্যাঁকসই মিঠাই, তেমনই বাঙ্গালির রসনার টেকসই স্যাঙাত।

পাঁপড়ের কাহিনী কিছু অপরিষ্কার। নানা রকম ডালবেটে বেলন চালনার মুন্সীয়ানায় জিরো ফিগারের খাদ্য বস্তুটি আসমুদ্র হিমাচলে তুমুল জনপ্রিয়। সেই দেড় হাজার বছর আগে জৈন রেফারেন্স পাচ্ছি আমরা, জৈন ধর্মপ্রচারকরা লম্বা রাস্তা পাড়ি দেওয়ার সময় থলিতে নিচ্ছেন পাপড়, গরমে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। মেয়েদের দল একসঙ্গে জোট বেঁধে পাপড় বেলছে,-  এই দৃশ্য খুব নতুন নয়।

নদীর দেশ, বৃষ্টিঝরার দেশ বাঙ্গলার কাছে পাঁপড়কে আঁচলে বেঁধে রেখেছে খিচুড়ি। ধুতির খুঁটেও বলতে পারেন। ইনফ্লেশন আর কস্ট কাটিং এর  কালে পাঁপড় ভাজা বড় আপনার। সেই অর্থে জিলিপি পাঁপড় - দুইজনেরই মানিব্যাগের সাইজ নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। রথযাত্রা ব্যাপারটা এমনিতে রাজকীয়। সোনার ঝাঁটা, ছাপান্ন ভোগ, প্রকাণ্ড মূর্তি, প্রকান্ড রথ এসব তো ম্যান্ডেটরি। তবু দেখুন, জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা ঐ ছোট্ট কাঠের রথগুলোয় চেপে কচি কচি হাতের দড়ির টানে নড়বড় লগবগ না করলে উসখুশ করেন। একটু বাতাসা, কয়েকটা নকুলদানা না পেলে হয়?  দেবতা গা মুড়মুড়ি ব্যারাম নিয়ে রথের আগে চোদ্দো দিন পথ্য করেছেন, মুখ ফেরাতে হবে তো?

দেবতার পথ্য? কি আজব কথা?

মহাপ্রসাদ নয়, একেবারে লিকুইড ডায়েট, যাকে বলে পান ভোগ, সঙ্গে ভেষজ অনুপান। আটা, কাঁচা মুগ, আম, কাঁঠাল আর কবিরাজি মোদক দিয়ে পথ্য করে দেবতা সেরে উঠবেন। তখন চেঞ্জে যেতে হবে। অবশ্যই রথে চেপে। তাহলে স্নানযাত্রার পর চোদ্দদিন হোম আইসোলেশনে থেকে পথ্য টথ্য করে দেবতা যখন গা ঝাড়া দিয়ে উঠছেন, রথযাত্রার উৎসবে জাত ধর্ম একপাশে ফেলে গণদেবতার লাইন পড়ছে, কোথায়? কেন? জিলিপি পাঁপড়ের দোকানে!

কিন্তু জিলিপি পাপড় নিয়ে তেমন প্রবাদ নেই যেমন আছে কলা নিয়ে। কথাতেই তো আছে রথ দেখা কলা বেচা। নিখাদ বাঙালি কথা, ব্যবসার মার্কেটিংয়ের আপ্তবাক্য। এই প্রবাদের সূত্র খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় আটশো বছর। পেতে হবে একটি নাম।

ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী।

আমরা রথের মেলা, মেলার খাবার, প্রবাদ আর ধ্রুবানন্দে ফিরছি, তার আগে একটা জরুরি পয়েন্ট দেখে নিতে হবে। দেবতার শরীর খারাপ, আরোগ্য, আমাদের যেমন লোকাচারের সন্ধান দেয়, তার চেয়ে কত আলাদা - দেবীর শারীরবৃত্তিয় ঘটনা?

লোকদেবী ভূদেবী আবার ওড়িশায় হলেন জগন্নাথের স্ত্রী।

রথযাত্রা তো আষাঢ় মাসে, আমরা তার গোড়ার দিকে গেলে দেখব অরণ্যষষ্ঠীর কয়দিন পরেই মিথুন সংক্রান্তি, এই সময় ভূদেবীর সূত্রে রজোৎসব পালিত হবে তিনদিন।

এদিকে আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তৃতীয় দশার শেষে তিনদিনের অম্বুবাচী উৎসব। মানে রথযাত্রার প্রায় ঘাড়ের ওপরেই বলা যায়।

কামাখ্যা। প্রতি বছর অম্বুবাচীর বিরাট উৎসব হয়, মেলা বসে। অথচ মন্দিরে মন্দিরে দেবী লাল চাদরে ঢাকা। গৃহদেবতার পুজো অনেকে বন্ধ রাখেন। তাতে ধরিত্রীর রজৎসবে বাধা নেই এখানে। তাহলে আসুন, শুনি, প্রজনন আর উর্বরতার উৎসবে আমাদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে কী জানা যায়?

আচ্ছা মেয়েরা কী খায়? খাবি খায়, আদর খায়, গালি খায়, বাড় খায়, কিল খায়, ফুটেজ খায়, খিদে পেলে কথা খায়, এই? আর কী খেয়ে মেয়েরা ঠিক ঠিক মেয়ে হয়ে ওঠে? কুলের আচার, কারেন্ট নুন, আমমাখা, লেবুজরা, ডাঁশা পেয়ারা ভালোবেসে না খেলে মেয়েজন্ম সার্থক হয় না, এ কথা সবাই জানে। আমাদের পথের পাঁচালীর দুর্গা ম্যালেরিয়ার ঘোরে ভাত খেতে চেয়েছিল, সর্বজয়া দেননি। মেয়েদের ডায়েট চার্ট, খাবারের বিধিনিষেধ আজকের বস্তু নয়, তারপরে শাস্ত্রের আগে আছে লোকাচার। লখিন্দরকে সাপে কাটল যখন,- বেহুলাকে ভাতারখাগী বলে গাল পেড়েছিলেন সনকা। সেকেলে বলে নাক কোঁচকানোর আগে দেখে নিন, রবিঠাকুরের চন্দ্রা রক্তকরবীর মালা পরা নন্দিনীকে আগুনখাকী বলে গাল পেড়েছে কিন্তু।

তবে কিনা এই সব খাবারের ক্যালোরিভ্যালু বড় বেশী দার্শনিক। যা চোখে দেখা যায় তা হল হাঁড়ির উদ্বৃত্ত ভাত, কলমীর ঝোল, মাছের সবচেয়ে ছোট টুকরো, পরিবারের উদ্বৃত্ত উচ্ছিষ্ট, ডিমের অর্ধেক এইসব আর কি!

ঋতুস্রাবের সময় যেমন ধরুন, হাই প্রোটিন ডায়েট তো মাস্ট, মেয়েদের শরীর থেকে যে রক্ত বেরিয়ে যায় তার ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা তো জেঁকে বসবে। মেয়েদের মাংস, মাছ খাওয়ার কোনও বিধান আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

মাতৃপূজক সভ্যতার বলি দিয়ে মাংস খাবার প্রথা আমরা দেখেছি, তবে কিনা সেসব পূজো আচ্চার ভার পুরুষের ওপরেই পড়ে সিংহ ভাগ, তাও আমাদের অদেখা নয়। কারা যেন কবে রজস্বলা মেয়েদের অস্পৃশ্য বিধান দিয়ে বসেছেন? মেয়েদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা ভাবনাগুলো কবে যে গুলিয়ে গেল!

তবে কিনা তাই বলে বৈষ্ণব আর শাক্ত দুই ধারাকে গুলিয়ে ফেললেও চলবে না।

অম্বুবাচীর ডায়েট থেকে প্রোটিন হারিয়ে গেছে, কি আর করা যাবে। এই নিয়ে মন খারাপ না করে আমরা বরং রথের মেলায় যাই। এই, কে এই ধ্রুবানন্দ? চৈতন্যদেবের তিনশো বছর আগে রথের দেবতা পুরী থেকে মাহেশে এলেন কেমন করে? সেই গল্পটাই বরং শুনি?

মামুলি এক বাঙালি সাধু ধ্রুবানন্দ, পুরীতে তীর্থ করতে গিয়েছিলেন। সাধ হল জগন্নাথদেবকে নিজের হাতে ভোগ রেঁধে খাওয়াবেন। কিন্তু পুরীর মন্দির, জগন্নাথদেবের পাহারায় আছেন যাঁরা সেই পাণ্ডাদের ব্যাপারটা মনঃপূত হল না। তাঁরা পার্মিশন দিলেন না। ধ্রুবানন্দ ছাড়বেন না। দারুব্রহ্মকে ভালোবেসেছেন, আর ফেরার পথ নেই। আমরণ অনশনে বসলেন। নীল মাধবের ভক্ত বাৎসল্য প্রবল। তিন দিন পরে ভক্ত স্বপ্নে পেলেন ভগবানকে। জগন্নাথদেব তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, "ধ্রুবানন্দ, বাংলায় ফিরে যাও। সেখানে ভাগীরথী নদীর তীরে মাহেশ নামেতে এক গ্রাম আছে। সেখানে যাও। আমি সেখানে একটি বিরাট দারুব্রহ্ম (নিম গাছের কাণ্ড) পাঠিয়ে দেব। সেই কাঠে বলরাম, সুভদ্রা আর আমার মূর্তি গড়ে পূজা করো। আমি তোমার হাতে ভোগ খাওয়ার জন্য যে বসে আছি গো।"

ফিরে এলেন ধ্রুবানন্দ। মাহেশে এসে সাধনা শুরু করলেন। তারপর এক বর্ষার দিনে মাহেশ ঘাটে একটি নিমকাঠ ভেসে এল। সেই কাঠ তুলে তিন দেবতার মূর্তি বানিয়ে মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন তিনি।

কতদিনের কথা? মাহেশে এসে ধ্রুবানন্দের প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ দেখে আপ্লুত হচ্ছেন স্বয়ং চৈতন্যদেব, বলছেন এ মূর্তি যেন নব নীলাচল। তখন রথের মেলার এত প্রতিপত্তি ছিলো মাহেশে? কই, ভক্তের ভগবান নদের নিমাইকে প্রেমে মায়ায় বেঁধে মাহেশে রেখে দিতে পারলেন কই? সেই তো ভক্তি আন্দোলনের জোয়ার তুলে সোনার গৌর থেকে গেলেন নীলাচলেই। জীবনের চব্বিশ বছর শ্রীক্ষেত্রে শুধু আধ্যাত্মিক মার্গে রয়ে গেলেন বুঝি চৈতন্যদেব? পুরীর রাজা প্রতাপ রুদ্র শেষ অবধি সুলতানশাষিত বাংলা আক্রমণ করলেন না, সে কি চৈতন্যদেবের পরামর্শে?

আচ্ছা বেশ, রথযাত্রা যখন হচ্ছেই তখন পুরীই যাওয়া যাক বরং। রাজা প্রতাপ রুদ্র সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা সাফ করে দিয়েছেন। ভগবান যাবেন ভক্তের নাগাল দিয়ে, ব্রাহ্মণ শূদ্র শ্রেণী বিভাজন এই একটি দিনে মাফ। তখনও দেবতার রোজকার ভোগপ্রসাদে অব্রাহ্মণের অধিকার দুর্লভ। এবার বোঝা যাচ্ছে তো জীবনের শেষ চব্বিশ বছর খরচ করে কোন ভক্তদের অধিকার দিতে লড়ে যাচ্ছেন নদিয়ার নিমাই সন্ন্যাসী?  রথের বহর বাহার তাক লাগানো। উপস্হিত জনতা যাতে ভরা বর্ষার কাদায় পিছলে দুর্ঘটনায় না পড়ে, মণ মণ বালি এনে রথের পথে ঢালা হয়েছে।ভক্তের বিপুল সমাগম। শ্রীচৈতন্য দলবল শুদ্ধু কীর্তন করেছেন। সমবেত হরিধ্বনি শ্রীক্ষেত্রের জনতাকে মাতিয়ে দিয়েছে, এবারে ভক্তের ভোগ নিবেদনের পালা। চৈতন্যদেবকে দলবল সমেত খাওয়াতে বসালেন রাজা স্বয়ং। তা কী কী এলো লাঞ্চে? প্রসাদ অবশ্যই, কিন্তু কেমন সেই প্রসাদ?

ছেনা পানা পৈড় আম্র নারিকেল কাঁঠাল
নানাবিধ কদলক আর বীজতাল।।
নারদ ছোলঙ্গ টাবা কমলা বীজপুর
বাদাম ছোহোরা দ্রাক্ষা পিণ্ড খরজুর ।।
মনোহর লাড়ু আদি শতেক প্রকার
অমৃত গুটিকা আদি ক্ষীরসা অপার ।।
অমৃত মণ্ডা ছানাবড়া আর কর্পূরকুলি
রসামৃত সরভাজা আর সরপুলি ।।

এদিকে পুরীর রথযাত্রার কথা হচ্ছে, খাজা কই? মানছি কাকাতুয়া বা নৃসিংহ সুইটস তখনও পসরা সাজিয়ে বসে নি। তাই বলে খাজা থাকবে না ডায়েটে?

এই তো, কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলছেন

হরিবল্লভ সেবতী কর্পূর মালতী
ডালিম মরিচা-নাড়ু নবাত অমৃতি ।।
পদ্মচিনি চন্দ্রকান্তি খাজা খণ্ডসার
বিয়োড়ি কদমা তিলখাজার প্রকার ।।
নারঙ্গ ছোলঙ্গ আম্রবৃক্ষের আকার
ফল ফুল পত্র যুক্ত খণ্ডের বিকার ।।

তা এই এত খাবার, সব যে শুকনো মিঠাই! ভাত তরকারি কই?

অন্ন ব্যঞ্জন আছে রে বাবা, তবে রাঘবের ঝালিতে  তা তো পাওয়া যাবে না।

রাঘবের ঝালি। চৈতন্যদেবের ভক্ত রাঘব পণ্ডিত। গঙ্গাহৃদির বুকের ধন নদের নিমাইকে প্রসাদ খাওয়ানোর দায় নিচ্ছেন রাঘব পণ্ডিত, চন্দ্রকেতুগড়ের প্রাচীন রাজপুরোহিত বংশে তাঁর জন্ম। তাঁর বাল- বিধবা বোন দময়ন্তী রথের আগে মহাপ্রভুর জন্য রকমারি নাড়ু, মিষ্টি, আচার পাঠাতেন, সারা বছর কীর্তনিয়া দল খেতে পারে এমন পরিমাণে সে সুখাদ্য আসত পানিহাটি থেকে নীলাচল।এই হলো মহাপ্রভুর প্রিয় রাঘবের ঝালি। মিষ্টি ঝাল নোনতা কি নেই তাতে?

দধি দুগ্ধ দধিতক্র রসালা শিখরিনী
সলবণ মুদগাংকুর আদা খানি খানি ।।
নেবুকলি আদি নানা প্রকার আচার
লিখিতে না পারি প্রসাদ কতেক প্রকার ।।

তো কেবল মিষ্টি খেলে তো চলবে বা। চৈতন্যদেব রথের সামনে তাণ্ডব নাচছিলেন। যা ঘেমেছেন না, শরীর থেকে নুন জল অনেক বেরিয়ে গেছে? এই হল তার নিদান। তবে চৈতন্যদেব একা কেমন করে খাবেন?

কীর্তনিয়া পরিশ্রম জানি গৌড় রায়
তা সাবেক খাওয়াইতে প্রভুর মন ধায়
পাঁতি পাঁতি করি ভক্তরে বসাইলা
পরিবেশন করিবারে আপনে লাগিলা

এমনধারা পংক্তি ভোজনে মহাপ্রভু নিজে পরিবেশন করে খাওয়াচ্ছেন, তারপর খেতে বসছেন। ভক্তির বানে ভাসিয়ে দিচ্ছেন ভক্ত ভগবানের শ্রেণী বিভাজন। তখন আচমকা জগন্নাথদেবের রথ গেল থেমে। পালোয়ান যে যেখানে ছিলো ছুটে এসে রথের দড়ি ধরে টানাটানি করতে লাগল। রাজা প্রতাপ রুদ্র ছুটে এলেন, হাতি ডেকে রথ টানতে বললেন। হাতি ডাঙ্গসের বাড়ি খেয়ে খেয়ে চটে উঠল, রথ এক পাও এগোলো না।এই মুহূর্তে টিমলাঞ্চ সেরে চৈতন্যদেব উপস্থিত হলেন।

তিনি এসে হাতি ষষ্ঠিচরণ যে যে জুটেছিল সবাইকে সরিয়ে দিলেন, তারপরে মাথা দিয়ে রথ ঠেলতে লাগলেন। কান টানলে মাথা আসে। আর তেমন তেমন মাথা পেলে রথ আপনি টানে। গড়গড় করে রথ চলতে লাগলো। নীলাচল হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

আমাদের মাহেশে এতটা রোমাঞ্চকর ঘটনা রথ নিয়ে হয়তো নেই। ধ্রুবানন্দ জগন্নাথদেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করলেও মাহেশের প্রবাদপ্রতিম যে রথযাত্রা উৎসব, তা চালু হয়েছিল চৈতন্যদেবেরই তত্ত্বাবধানে। তাহলে মাহেশের ওই বিখ্যাত রথ? সেও চৈতন্যদেব আনলেন?

ধীরে বন্ধু ধীরে। ও আসতে লাগবে আরও দুশো বছর। সিপাহী বিদ্রোহের পর। রাজা রাজড়াদের চরিত্র বদলের ক্রান্তিকাল তখন। হুগলির ধনী বাঙালি তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান কৃষ্ণরাম বসু। তিনি প্রথমে পাঁচ পরে নয় চূড়ার কাঠের রথ বানিয়ে দিলেন মাহেশের জন্য। এর প্রায় দেড়শো বছর পরে  ১৮৮৪ সালে রথযাত্রার দিন কাঠের রথ আগুনে পুড়ে যায়। তখন বসু পরিবার নগদ কুড়ি লক্ষ টাকা দিয়ে মার্টিন বার্ন কোম্পানি থেকে বানিয়ে আনলেন পঞ্চাশ ফুট উঁচু চারতলা লোহার রথ। যা এখনও রথের মেলার ইউএসপি। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে অন্তত পক্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল থেকে মাহেশের রথ দেখতে সারা দেশ থেকে মানুষ ছুটে আসবেন। মানুষ এলে তবেই না একমাসের রথের মেলাটিও হবে?

এখানকার পানের বরজগুলো তো আর ফেলনা নয়? দেবতাকে জায়গার ভালো জিনিসটা দিতে হয়। এখন সবাই মিলে পান দিতে চাইলে কিছু একটা জড়িয়ে দিতে হয়। রথ অবধি নইলে পৌঁছাবে কেন? কলায় পান জড়িয়ে দিলেই হয়? সেই থেকে বাঙালি রথ দেখতে গিয়ে কলা বেচার পার্টটাইম ব্যবসা করে আসছে, এ আজকের কথা তো নয়! আর রথের মেলা বসলে নীলাচল হোক কি শ্রীরামপুর, খাজা তো থাকতেই হবে। খাজা জিনিসটিও তো আজকের নয় কিনা! খাজার প্রাচীনতম উল্লেখ আসছে যেখান থেকে তা নীলাচল নয় কিন্তু।

 মগধ, ষোড়শ মহাজনপদের অশ্বমেধের ঘোড়া যেখানে নতুন দৌড় আরম্ভ করেছিল, সেই মগধেই নাকি এক ভিক্ষু, মাধুকরীর পথে খাজা খেয়ে প্রীত হয়েছিলেন।

আড়াই হাজার বছর আগের ঘটনা। যেহেতু ভিক্ষু ছিলেন তথাগত স্বয়ং, তাঁর প্রীতির কথা লেখা হয়ে গিয়েছে নালন্দার পুথিতে। এর বহু পরে হিউয়েন সাংয়ের মতন গম্ভীর ঐতিহাসিকও খাজা খেয়ে লিখে যাবেন “বাকলাভার মতন মিঠাই খেলাম, খর্জরিকা।তবে এ বস্তু আকারে বহরে আরও বড়”। তারও নশো বছর পর চৈতন্যদেবের রোজকার মেনুতে খাজা থাকবেই। আজও দীপুদা-প্রিয় বাঙালি পুরী থেকে ফেরার সময় হাতে খাজার প্যাকেট কখানা ব্যাগে ভরে আনবে। এমন বস্তু যা কিনলেও দিয়ে থুয়ে খেতে হয়।

আমরা তাহলে পাক প্রণালী বেয়ে একবার দেখব নাকি খর্জরিকা কেমন করে পাক দিতে হয়?

খর্জরিকা|

উপকরণ লাগবে ময়দা আর ঘি সম পরিমাণ। 

কিন্তু ময়দা এলো কোথা থেকে? না মানে মৌর্য্য যুগ যদি ছেড়েও দিই, আমাদের চৈতন্যদেব ধরুন মহাপ্রসাদ মুখে দিচ্ছেন, তখন হল ষোড়শ শতাব্দী। ময়দার মতো প্রসেসড ফুড তখন আসবে কোথা থেকে?

আসলে এখনকার ময়দা আর তখনকার ময়দা এক নয়। পঞ্চানন রায় চৌধুরী সোজা বলছেন খাজা বানাতে খাসা মাস্ট।

সুজি ভেঙে তৈরি হয় খাসা। সহজপাচ্য, আবার ভাজার জন্য মুচমুচেও বটে। তবে কিনা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসার পর থেকে মিলের তৈরি প্রসেসড খাবার আমাদের হেশেলে ঢুকে পড়ছে। তাই খাসার অবর্তমানে ময়দা চলবে, যদিও পঞ্চানন বাবু জানাচ্ছেন ভালো ময়দা খুব পাতলা সুতির কাপড়ে ছেঁকে নিতে হবে। তখনও রিফাইনড আটা অতটাও রিফাইনড ছিলো না কিনা। তারপরে এক পোয়া ময়দায় আধ পোয়া ঘি ময়ান দিয়ে খুবসে ঠাসতে হবে। জল পরিমাণ মত হবে।

যাদের মাত্রা জ্ঞান কম তারা এখানেই থেমে যাবেন, কারণ শুধু জল নয়, এর পরে যা যা হাতের কাজ আছে, তা দক্ষ কারিগর ছাড়া নামানো বেজায় কঠিন। তাই সাধু সাবধান।

পঞ্চানন রায় চৌধুরীর সাবধান বাণী মাথায় রেখেই এবারে কাঠের পাটায় ময়দা খুব পাতলা করে বেলে নিতে হবে। এরপরে ঘি দিয়ে দু ভাঁজ করে উল্টে নিয়ে আবার বেলতে হবে, তারপর আবার ঘি দিয়ে ভাঁজ করে উল্টে নিতে হবে। যতবার করা হবে তত খাজার ভাঁজ ভালো হবে। এরপর লেচি কেটে লুচির মতন বেলে বাকি ঘি তে ডুবিয়ে ভেজে নিতে হবে। যেই লেচির ভাজগুলো খুলে আসবে বুঝে নিতে হবে ভাজা শেষ। এবারে খাজাগুলো একটা চুবড়িতে রেখে ভেতরের ঘি ঝরিয়ে নেওয়াটাই দস্তুর। শেষে মোটা চিনির রস ঝাঝরি করে খাজার ওপর ছড়িয়ে দিলে কেল্লা ফতে।

তবে দময়ন্তী দেবী যেমন বছরখানেকের রসদ হিসেবে রাঘবের ঝালিতে শুকনো মিষ্টি পাঠাতেন মহাপ্রভুর জন্য তেমনটি বানাতে চাইলে চিনির শিরা ছাড়া খাজা শুকনো রাখাই শ্রেয়। দময়ন্তী দেবীর অবশ্য ভাবনা ছিলো না। পেনেটি থেকে নীলাচল অবধি শুকনো খাজা পৌঁছে গেলে সেসব খাদ্য আপনিই ভক্তিরসে জারিত হয়ে যেত, চৈতন্যলীলার সেসব কথা কে না জানে? আপনি একটু কষ্ট করে চিবিয়েই খেলেন না হয়! আর অবশ্যই বিলি করে খেতে ভুলবেন না!

খাদ্যের সুষম বন্টনেই মঙ্গল।

প্রকৃত রসমঙ্গল।

ধাঁধা

সুন্দর বরণ তার কুন্ডল চরণ
যশোদা দেবকী নয় গর্ভে নারায়ণ

উত্তর: দেখার জন্য ক্লিক করুন

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব এক

    দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব এক

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP12 | প্রকাশিত: 18 জানুয়ারী 2026
    সময়কাল: 15 মিনিট 46 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    জ্ঞান কথাটাকে তিব্বতে কী বলে?

    'ডাক', একটি তিব্বতী শব্দ। এর অর্থ জ্ঞান।আর এই ডাক থেকে কোন শব্দ এসেছে? ডাকিনী, অর্থাৎ, জ্ঞানী মহিলা।

    কিন্তু ডাকিনী যোগিনীর নাম পেত্নী শাঁকচুন্নী পিশাচিদের সঙ্গে এক ব্র্যাকেটে বসিয়ে দিলে চলবে না। একদল কায়াহীন,ছায়া-ছায়া, হতেও পারে নাও হতে পারে টাইপ, আর আর একদল যে নির্ভেজাল রক্ত মাংসের ভাত রুটি ফল পাকুড় মাস মচ্ছি খাওয়া ঘোর বাস্তব!

    ভয় পাচ্ছেন? ওই ভয়টাই তো ভুলিয়ে দিয়েছে আমাদের শিকড়ের ইতিহাস! আমরা ভুলে গেছি এই ডাকিনী, যোগিনী এ কেবল গা ছমছম গল্পের চরিত্র নয়! একেবারে সামাজিক ভাবে স্বীকৃত পদবী। বেজায় খাটনি করে অর্জন করতে হয়।

  • Fish-Fish | মৎস্য ধরিব খাইব সুখে | Fish, Folklore and Forgotten Stories

    মাছ আমিষ, মাছ নিরামিষ

    সিরিজ: ⁠রসবতীর রসকরা | পর্ব: EP03 | প্রকাশিত: 20 জুলাই 2025
    সময়কাল: 21 মিনিট 1 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    কলাপাতায় গরম গরম ভাত, গাওয়া ঘি, পাট শাক, মৌরলা মাছ, আবার দুধ। সব রেঁধে বেড়ে খেতে দিয়েছেন কান্তা,পুণ্যবান ভোজনে বসেছেন। তিনি কি শাক দিয়ে মাছ ডাকছেন? শাক আর মাছের যুগলবন্দী তো আজকের নয়? রুই মাছ দিয়ে কলমীর আগা, গিমেশাক দিয়ে মাগুর ঝোল - এইসব ডেলিকেসি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলে ভুরি ভুরি ছড়ানো। মাছে মাছে যাকে বলে মৎস্য মঙ্গল।

  • ভোগ থেকে গুপ্তধন; দুর্গাপুজোর সাতকাহন

    ভোগ থেকে গুপ্তধন; দুর্গাপুজোর সাতকাহন

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP08 | প্রকাশিত: 27 সেপ্টেম্বর 2025
    সময়কাল: 32 মিনিট 29 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    ভানু আর মতি শোনাচ্ছে দুর্গাপুজোর সাতকাহন—ভোগের স্বাদ থেকে বর্গীর দুর্ভোগ, গুপ্তধনের জনশ্রুতি থেকে এক কিশোরীর রহস্যময় অন্তর্ধান। ইতিহাস, লোকগাথা আর রহস্য কাহিনি মিশে এক অনন্য গল্পকথন।

    দুর্গাপুজো মানেই ভোগ, আনন্দ আর উৎসব। তবে এর মাঝেও আছে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, লোকদেবী হয়ে ওঠার কাহিনি, ডাকাত, গুপ্তধন আর নিষিদ্ধ জনশ্রুতি।

  • খিচুড়ি, ইলিশ ও গল্প

    খিচুড়ি ইলিশ, মঙ্গলকাব্য থেকে পোস্ট মর্ডানিসম

    সিরিজ: ⁠রসবতীর রসকরা | পর্ব: EP02 | প্রকাশিত: 06 জুলাই 2025
    সময়কাল: 20 মিনিট 30 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    রবিহারা দিনগুলোতে গা ম্যাজম্যাজ নাক ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ? এই ওয়েদারে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা এক থালা খিচুড়ির আগ্নেয় পাহাড়, তার জ্বালামুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে টলটলে ঘিয়ের স্রোত। জিভ, পেট, মন, শরীর উষ্ণ রাখতে আজ পাতে পড়বে কী? কেন? খিচুড়ি? শীতের কনকনে রাতে বর্ষার ঝমঝমে দুপুরে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি খেলে শরীর ওম পায়। হাই ফাইবার হাই ক্যালোরি এইসব খাবার হজম করতে করতে একটু মঙ্গলকাব্যে শুনুন।

  • Podcast Banner - EP03 - রুটি থেকে ভাত

    সিপাহী বিদ্রোহ থেকে সেলুলার জেলের হেঁশেল

    সিরিজ: স্বাধীনতার স্বাদ | পর্ব: EP04 | প্রকাশিত: 03 আগস্ট 2025
    সময়কাল: 29 মিনিট 18 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পনেরই আগস্ট, ১৯৪৭, মধ্যরাত্রি। পৃথিবীর মানচিত্রে উদয় হল এক স্বাধীন দেশ, ভারতবর্ষ। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তৃতাটি দিয়ে জওহরলাল নেহরু উপস্থিত সবাইকে মতিচুরের লাড্ডু বিতরণ করে খাইয়েছিলেন। স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ- মিঠে না হয়ে যায় না। তিনি কি জয় হিন্দ সন্দেশের স্বাদ জানতেন? বা জয় হিন্দ বরফি? নিদেন পক্ষে নেহরু সন্দেশ?

  • এপস্টিন ফাইলস

    এপস্টিন ফাইলস

    সিরিজ: সাময়িকী | পর্ব: EP15 | প্রকাশিত: 08 ফেব্রুয়ারী 2026
    সময়কাল: 23 মিনিট 14 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এপস্টিন ফাইলস। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনসেশনাল কনটেন্টের ভিড় একটু ব্যোমকে গিয়েছে এপস্টিন ফাইলস নিয়ে। কার নাম কোথায় কী মর্মে এলো তাই নিয়ে যেমন রাজনৈতিক ভাব সম্প্রসারণ চলছে, অন্যদিকে সেক্স স্ক্যান্ডালের রগরগে বর্ণনায় কেউ শিউরে উঠছেন, কেউ আবার ঠোঁট চেটে বলছেন মেয়েমানুষ পেলে অনেকসময় লঘু গুরু জ্ঞান থাকে বা, তাই বলে কি এতটা করতে আছে? বড় বড় মানুষ সব, বড় বড় ব্যাপার!

    তাই কী? এপস্টিন ফাইল শুধু কি বিলিয়নেয়ার বিজনেসম্যানের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি হিসেবে আলাদা কেস? একজন বিকৃত লোক, একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
    এপস্টিন ফাইল ও নারীশরীরের ইকোনোমি নিয়ে আসুন একটু কথা বলি। আগে একটু মূল ঘটনাটা জানা যাক। কে এই এপস্টিন? কী হয়েছিল?

  • লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP10 | প্রকাশিত: 26 অক্টোবার 2025
    সময়কাল: 31 মিনিট 39 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    কার্তিকী অমাবস্যা বড় ধুমধাম
    চতুর্দশীতে লই পূর্বনারীর নাম।
    অমানিশা তিথি অযোধ্যা পুণ্য ধাম
    চোদ্দ বছর পরে ফেরেন সিয়া রাম।
    দীপাবলির আলোকে জাগে দশ দিক।
    কোজাগর আশ্বিনের পর দীপান্বিতা কার্তিক।
    ক্ষেত জাগে, খনি জাগে, যতেক কুলি কামিন
    জেগে আছে সুখী দুঃখী সকল ভক্তজন।
    হিমালয় রোষে ওঠে, জগত কাতর
    ভরা নদী কূল ছাপে আশ্বিন ভাদর।
    মানুষের লোভে আজ মানুষেরে হানে
    এসো মাগো ত্বরা করি বাংলার থানে।
    লক্ষ্মী বলে ডাকি যারে করি তারে হেলা
    শস্য ধান্য আজ বিষে ধন্য হই গেলা।
    অলক্ষ্মী বলে যারে দিলা নির্বাসন
    সেই বুঝি করিত এই গরল নিবারণ।
    ভারত পড়িব আর ধরিব রামায়ণ।
    বহুকালের ইতিকথা করিব বর্ণন।
    ভানু মতি ভনে শোনো অদ্ভুত এই কথা
    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর এই আশ্চর্য গাথা।

  • দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব তিন

    দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব তিন

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP14 | প্রকাশিত: 01 ফেব্রুয়ারী 2026
    সময়কাল: 18 মিনিট 24 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    আমরা আজ বিদ্যেধরীদের গল্প বলব। নবরত্ন সভা থেকে আজকালপরশুর দুনিয়ায় আমরা আজ বিদ্যেধরীদের খবর নেব।

    ইয়েস নবরত্ন সভা। বরাহমিহির, বররুচি, অমরসিংহ, ক্ষপণক, শঙ্কু, বেতালভট্ট, ঘটকর্পর, ধন্বন্তরি - সব চাঁদের হাট। অবশ্যই সকলে পুরুষমানুষ (মহিলারা আবার রাজসভায় কাজ টাজ নিয়ে আসবে কেন?), সেরা পুরুষ এই নয় রত্ন। আর সেরার সেরা পুরুষ? যিনি প্রেমের ভাষ্য তৈরি করবেন কলমের আঁচড়ে?

    কালিদাস! এই অবধি পড়ে আপনারা শুধোবেন বিদ্যেধরীর কথায় কালিদাস? তাহলে কি সেই সরস্বতীর গল্পটা?