কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব এক
সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP12 | প্রকাশিত: 18 জানুয়ারী 2026
সময়কাল: 15 মিনিট 46 সেকেন্ড
কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্ঞান কথাটাকে তিব্বতে কী বলে?

'ডাক', একটি তিব্বতী শব্দ। এর অর্থ জ্ঞান।আর এই ডাক থেকে কোন শব্দ এসেছে? ডাকিনী, অর্থাৎ, জ্ঞানী মহিলা।

কিন্তু ডাকিনী যোগিনীর নাম পেত্নী শাঁকচুন্নী পিশাচিদের সঙ্গে এক ব্র্যাকেটে বসিয়ে দিলে চলবে না। একদল কায়াহীন,ছায়া-ছায়া, হতেও পারে নাও হতে পারে টাইপ, আর আর একদল যে নির্ভেজাল রক্ত মাংসের ভাত রুটি ফল পাকুড় মাস মচ্ছি খাওয়া ঘোর বাস্তব!

ভয় পাচ্ছেন? ওই ভয়টাই তো ভুলিয়ে দিয়েছে আমাদের শিকড়ের ইতিহাস! আমরা ভুলে গেছি এই ডাকিনী, যোগিনী এ কেবল গা ছমছম গল্পের চরিত্র নয়! একেবারে সামাজিক ভাবে স্বীকৃত পদবী। বেজায় খাটনি করে অর্জন করতে হয়।

ডাকিনী, ডাইনী, এই শব্দ গুলোর সঙ্গে কিভাবে যেন জড়িয়ে গেছে ঘোর অনিষ্ট,.ভয়, আতঙ্ক আর মৃত্যুর দাগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমরা কেমন দাগিয়ে গিয়েছি এই আশ্চর্য পেশাকে, ঝেঁটিয়ে বার করে দিয়েছি সভ্যতার ঐ পারে। মানে ঐ যে সভ্যতার চারাগাছটার গোড়া পিতৃতন্ত্র দিয়ে বাঁধানো আর কি!

সে অনেক অনেক আগের কথা। গুহা থেকে বেরিয়ে মানুষ তখন সবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আগুন টাগুন ধরাতে শিখেছে। হাতুড়ি আবিষ্কারও হয়ে গেছে - লতার মাথায় পাথর বেঁধে, শিকার ঝলসে খাচ্ছে, দল করে থাকছে, আর বুঝতে পারছে এক মোক্ষম সত্য। দল যত ভারী, তত বেশি নিরাপত্তা। আর দল ভারী হয় কি ভাবে? ঐ যে? ঐ মাদীগুলো কি সব জানে। কি যেন করে। থেকে থেকে ওদের পেট ফুলতে শুরু করে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ছোট ছোট মানুষের ছানা। তারা বড় হতে থাকে, আর দল বাড়তে থাকে।

আদিম পৃথিবী নাকি দীর্ঘ দিন বুঝতে পারেনি সন্তানের জন্মে পুরুষেরও ভূমিকা আছে। তাই মেয়েদের তারা গোড়ার দিকে বেশ ভয় করে সমীহ করেই চলত, মনে করত ওসব বুঝি কোনও অলৌকিক শক্তি, গুপ্ত বিদ্যা। কারণ পুরুষ চাইলেও তা করতে পারছেনা।

ফলে যতসব অতিপ্রাকৃত, দৈবী, অলৌকিক, এককথায় যা কিছু ব্যাখ্যার অতীত, তার কৃতিত্ব বল আর দায়ভারই বল, সব এসে পড়ছে এই বেচারা অবলা রমনীকুলের এর ঘাড়ে। বাকি গল্প তো বেশ সরল। গর্ভধারণ, মাসিক রক্তপাত, সন্তান পালন এই সবের জন্য মেয়েদের শিকারে যাওয়া কমে এল, গুহায় থাকা বাড়তে লাগল। উদ্বৃত্ত সময় তারা করে কী?

ঐ যে? বীজটা মাটিতে পড়লে নতুন চারা গজায়? কেমন করে? সৃষ্টির গোড়ার কথা আর কি!

চাষাবাদ। প্রথমে পর্যবেক্ষণ, তারপর পরীক্ষা নিরীক্ষা আর শেষমেশ আবিষ্কার। এবং শুধু চাষাবাদ নয়, পশুদের দেখে দেখে গাছপালা লতাপাতার আশ্চর্য সব গুণ আয়ত্ত করা, গাছের আঁশ থেকে কাপড় বোনা, গুহার গায়ে বাইসন আঁকা, মানে যাকে বলে কিনা বৌদ্ধিক সব কাজকর্ম।

তা দিব্যি সব চলছিল। মেয়েরা আশ্চর্য সব কীর্তি ঘটিয়ে হয়ে উঠছিল রহস্যময়ী, জাদুকরি, লব্ধ জ্ঞান ধরিয়ে দিচ্ছিল পরের প্রজন্মের নারীর হাতে অতি গোপনে, সংকেত আর হেঁয়ালীর মাধ্যমে। এমন সব কান্ড দেখে ভয়ে ভক্তি তে তাদের মাথায় তুলে রাখল আদিম মানবের দল। কিন্তু গোল বাঁধল পরে। কালেদিনে পুরুষ.যখন ধরে ফেলল সন্তান জন্ম মেয়েরা একা একা পারে না, পুরুষের ভূমিকা সেখানে নেহাত ফেলনা নয়, তখন আর কি! তুড়িলাফ! পুরুষের না আছে মাসিকের জন্য কোনও বাঁধাবাঁধি, না আছে পেটে বাচ্চা নিয়ে বুকে দুধ নিয়ে সন্তানের সঙ্গে বাধ্যতামূলক জুড়ে থাকা, এককথায় মুক্ত বিহঙ্গ। ব্যস আর কি! ওদিকে সভ্যতা চলছে এগিয়ে। আদিম সমাজ নগর সভ্যতার অমৃত চেখেছে, শুধুমাত্র প্রাণরক্ষা নয় ক্ষমতার আগ্রাসনে যুদ্ধজয়ের উল্লাসে মেতেছে , সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার নিশান উড়িয়েছে, এবং হাড়ে হাড়ে বুঝেছে সংসারে বাহুবলের গুরুত্ব। এবারে বাহুর সংখ্যা বাড়াতে হলে ধড়ের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। তাহলে কী?

নারীর গর্ভও পুরুষের সম্পদের অংশ হতে হবে। বংশে পুরুষের অধিকার কায়েম হবে। প্রজন্মের পরিচিতি থাকবে পুরুষানুক্রমে। ফলে নারীর জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে উঠল লাগাতার সন্তান উৎপাদন এবং তাদের প্রতিপালন।

তাহলে সেই অতুল জ্ঞানের কি হল?

কেন? যত বেশি জানে, তত কম মানে! শুনিসনি? ফলে স্বাভাবিক ভাবেই নগরসভ্যতা ঐ জ্ঞানকে ভয় পেতে শুরু করল। যে নারী আগুন ধরাতে জানে, বীজ চেনে, ওষুধ জানে তাকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হল। ওরা মায়াবিনী, কুহকিনী। রাজাকে ছলনায় ভুলিয়ে পথভ্রষ্ট করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। তার পর কুচুত করে গলায় দাঁত বসিয়ে রক্ত চুষে খায়। ওরা রাক্কুসি!

আর সেই আদিম সময় থেকে চলে আসা জ্ঞান চর্চার পরিসর তথাকথিত সভ্য সমাজের বাইরে খানিক গোপনে খানিক নিভৃতে সরে যেতে থাকল, পাহাড়ে জঙ্গলে নানা আদিবাসী জনজাতির মধ্যে, কিছু নির্দিষ্ট পদ তৈরি হল ঐ বাবদ, যাদের ভবিষ্যত দুনিয়া চিনবে ডাকিনী বা যোগিনী নামে।

পণ্ডিতেরা বলেছেন ডাকিনী শব্দের মূলে আছে ডাক, একটি তিব্বতী শব্দ। যার অর্থ জ্ঞান। অর্থাৎ ডাকিনী হলেন, জ্ঞানী মহিলা। মতান্তরে ডাকিনী নাকি আসছে সংস্কৃত দিয়াতে শব্দ থেকে, যা কিনা ওড়া বা উড়তে পারা বোঝায়। ওদিকে ডাকিনী শব্দের তিব্বতী সমার্থক হল খন্দ্রোমা, যার অর্থ আকাশচারিণী। চিন বা জাপানেও ডাকিনীর কাছাকাছি শব্দগুলোর অর্থ মহাকাশে চলে ফিরে বেড়ানো মহিলাকে বোঝায়।

এই বিষয়টা বেশ তাজ্জব না? ডাইনী আসে ঝাঁটা চেপে, গাছ চালিয়ে বা বাবা ইয়াগার মতো হামানদিস্তায় চেপে, আকাশপথে। বিলিতি ডাইনিরাও তো সচরাচর স্হলপথ ব্যবহার করে না। কেন?

এটা বড় ধাঁধা। ডাকিনী বিদ্যার অলৌকিকত্বের মাত্রা বোঝানোর জন্য হয়ত এই আশ্চর্য ধারণা তৈরি করা হয়েছে। বলা মুশকিল। ভুললে চলবে না, ডাকিনী পরিচিতির মূলে আছে রহস্যময় গুপ্তবিদ্যা। বিশেষ করে বৌদ্ধ তান্ত্রিকসমাজে ডাকিনীরা ছিলেন অত্যন্ত সম্মাননীয়া, চুরাশি সিদ্ধর কাহিনীতে তাঁদের সিদ্ধসাধিকা ও গুরু, দুটি ভূমিকাতেই একাধিকবার দেখা গেছে।

এখানে স্বয়ং শাক্যমুনির দীক্ষিতা জ্ঞান ডাকিনী নিগুমার কথা না বললে দেবী ভারতী রুষ্ট হতে পারেন!

কে এই নিগুমা?

ভারতবর্ষে সহজযান ধারা শতপুষ্পে বিকশিত করার পুরোধা নিগুমা। হেবজ্রের উপাসক তিনি, বিক্রমশিলার অধ্যাপক ছিলেন নিগুমা। লিখেছেন চর্যাপদ এবং আরও অনেক গ্রন্থ। কয়েকটা নাম শুনবি? উপায়মার্গচণ্ডালিকাভাবনা, চক্রসম্বরমণ্ডলবিধি, প্রণিধানরাজ, মহামরজ্ঞান…ইনি রীতিমতো ঐতিহাসিক চরিত্র!

পরের দিন দেবী থেকে ডাইনি পর্ব দুই, আমরা বলব নিগুমার কথা, বলব এযুগের সরস্বতীদের কথা।

তাহলে আজ এই অবধিই থাক রসমঙ্গল? আমাদের জ্ঞানের দেবী মানবী সকলের পাতে পিঠেপুলি থাক? আমরা মনে রাখি অন্নের সুষম বন্টনেই মঙ্গল।

প্রকৃত রসমঙ্গল।

পর্ব ২ এখানে পড়ুন 

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • Fish-Fish | মৎস্য ধরিব খাইব সুখে | Fish, Folklore and Forgotten Stories

    মাছ আমিষ, মাছ নিরামিষ

    সিরিজ: ⁠রসবতীর রসকরা | পর্ব: EP03 | প্রকাশিত: 20 জুলাই 2025
    সময়কাল: 21 মিনিট 1 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    কলাপাতায় গরম গরম ভাত, গাওয়া ঘি, পাট শাক, মৌরলা মাছ, আবার দুধ। সব রেঁধে বেড়ে খেতে দিয়েছেন কান্তা,পুণ্যবান ভোজনে বসেছেন। তিনি কি শাক দিয়ে মাছ ডাকছেন? শাক আর মাছের যুগলবন্দী তো আজকের নয়? রুই মাছ দিয়ে কলমীর আগা, গিমেশাক দিয়ে মাগুর ঝোল - এইসব ডেলিকেসি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলে ভুরি ভুরি ছড়ানো। মাছে মাছে যাকে বলে মৎস্য মঙ্গল।

  • কার চরকায় কে তেল দেয়?

    সিরিজ: সাময়িকী | পর্ব: Ep21 | প্রকাশিত: 05 এপ্রিল 2026
    সময়কাল: 11 মিনিট 40 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধরুন আপনি একজন আমেরিকান বিনিয়োগকারী। ডলারে মুখ মোছেন। ভারতে ডলার দিয়ে শেয়ার কিনেছেন বছরখানেক আগে।

    সাধু সাবধান! এক বছর আগে ১ ডলার ছিল ₹৮৫।
    আপনি ১০০ ডলার দিয়ে কিনলেন ₹৮,৫০০-র শেয়ার।
    আজ টাকার দর হয়েছে ₹৯২.৯ প্রতি ডলার। সেই শেয়ার এখনো ধরুন ₹৮,৫০০ রয়েছে। টাকায় কমেও নি, বাড়েও নি। কিন্তু ডলারে মূল্য কমে হয়েছে মাত্র $৯০.৫।

    মানে শেয়ারের দাম টাকায় না কমলেও, ডলারে আপনি ইতিমধ্যে ১০% লোকসান করেছেন।

  • লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - মহাভারত থেকে সীতায়ন ; লোকদেবী বদলের রহস্য

    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - মহাভারত থেকে সীতায়ন ; লোকদেবী বদলের রহস্য

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP09 | প্রকাশিত: 12 অক্টোবার 2025
    সময়কাল: 29 মিনিট 40 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    উমা বিদায়ের পরের মনখারাপ মেশানো রাত। কোজাগরী পূর্ণিমার সেই রাত্রিতে ভানু আর মতি ফিরে দেখে লক্ষ্মী ও অলক্ষ্মীর পুরাণ—বেদ, ব্রত, শিল্প আর ইতিহাসের আলো-অন্ধকারে। কেন এক বোন পূজিত আর অন্য বোন নির্বাসিতা? কেন ফর্সা লক্ষ্মী ঘরে আর কৃষ্ণবর্ণা অলক্ষ্মী বাইরে?

    মহাভারতের সমুদ্র মন্থন থেকে রিফিউজি বাংলার সরা শিল্প পর্যন্ত—এ পর্বে খুঁজে দেখি, লোকদেবীর বদলে যাওয়ার রহস্য।

  • ভোগ থেকে গুপ্তধন; দুর্গাপুজোর সাতকাহন

    ভোগ থেকে গুপ্তধন; দুর্গাপুজোর সাতকাহন

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP08 | প্রকাশিত: 27 সেপ্টেম্বর 2025
    সময়কাল: 32 মিনিট 29 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    ভানু আর মতি শোনাচ্ছে দুর্গাপুজোর সাতকাহন—ভোগের স্বাদ থেকে বর্গীর দুর্ভোগ, গুপ্তধনের জনশ্রুতি থেকে এক কিশোরীর রহস্যময় অন্তর্ধান। ইতিহাস, লোকগাথা আর রহস্য কাহিনি মিশে এক অনন্য গল্পকথন।

    দুর্গাপুজো মানেই ভোগ, আনন্দ আর উৎসব। তবে এর মাঝেও আছে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, লোকদেবী হয়ে ওঠার কাহিনি, ডাকাত, গুপ্তধন আর নিষিদ্ধ জনশ্রুতি।

  • বারোয়ারি দুর্গাপুজো; বাঙালির দ্রোহের ইতিহাস

    বারোয়ারি দুর্গাপুজো; বাঙালির দ্রোহের ইতিহাস

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP07 | প্রকাশিত: 14 সেপ্টেম্বর 2025
    সময়কাল: 32 মিনিট 43 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় , চৈতালী বকসী

    মহালয়ার ভোরের আকাশে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ কি এখনও জাগিয়ে রাখে বাঙালির শিকড়ের বারোয়ারি উত্তরাধিকার? পলাশীর যুদ্ধ থেকে সিমলা ব্যায়াম সমিতির দ্রোহী দুর্গাপুজো, ইছাই ঘোষের শ্যামরূপা থেকে গুপ্তিপাড়ার প্রথম সার্বজনীন পুজো—সবকিছুর ভেতরেই লুকিয়ে আছে মাতৃপূজক বাঙালির অবাধ্যতার ইতিহাস।

  • লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP10 | প্রকাশিত: 26 অক্টোবার 2025
    সময়কাল: 31 মিনিট 39 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    কার্তিকী অমাবস্যা বড় ধুমধাম
    চতুর্দশীতে লই পূর্বনারীর নাম।
    অমানিশা তিথি অযোধ্যা পুণ্য ধাম
    চোদ্দ বছর পরে ফেরেন সিয়া রাম।
    দীপাবলির আলোকে জাগে দশ দিক।
    কোজাগর আশ্বিনের পর দীপান্বিতা কার্তিক।
    ক্ষেত জাগে, খনি জাগে, যতেক কুলি কামিন
    জেগে আছে সুখী দুঃখী সকল ভক্তজন।
    হিমালয় রোষে ওঠে, জগত কাতর
    ভরা নদী কূল ছাপে আশ্বিন ভাদর।
    মানুষের লোভে আজ মানুষেরে হানে
    এসো মাগো ত্বরা করি বাংলার থানে।
    লক্ষ্মী বলে ডাকি যারে করি তারে হেলা
    শস্য ধান্য আজ বিষে ধন্য হই গেলা।
    অলক্ষ্মী বলে যারে দিলা নির্বাসন
    সেই বুঝি করিত এই গরল নিবারণ।
    ভারত পড়িব আর ধরিব রামায়ণ।
    বহুকালের ইতিকথা করিব বর্ণন।
    ভানু মতি ভনে শোনো অদ্ভুত এই কথা
    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর এই আশ্চর্য গাথা।

  • খিচুড়ি, ইলিশ ও গল্প

    খিচুড়ি ইলিশ, মঙ্গলকাব্য থেকে পোস্ট মর্ডানিসম

    সিরিজ: ⁠রসবতীর রসকরা | পর্ব: EP02 | প্রকাশিত: 06 জুলাই 2025
    সময়কাল: 20 মিনিট 30 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    রবিহারা দিনগুলোতে গা ম্যাজম্যাজ নাক ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ? এই ওয়েদারে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা এক থালা খিচুড়ির আগ্নেয় পাহাড়, তার জ্বালামুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে টলটলে ঘিয়ের স্রোত। জিভ, পেট, মন, শরীর উষ্ণ রাখতে আজ পাতে পড়বে কী? কেন? খিচুড়ি? শীতের কনকনে রাতে বর্ষার ঝমঝমে দুপুরে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি খেলে শরীর ওম পায়। হাই ফাইবার হাই ক্যালোরি এইসব খাবার হজম করতে করতে একটু মঙ্গলকাব্যে শুনুন।

  • মেয়েরা আবার ক্রিকেট খেলে নাকি?

    মেয়েরা আবার ক্রিকেট খেলে নাকি?

    সিরিজ: সাময়িকী | পর্ব: EP11 | প্রকাশিত: 09 নভেম্বর 2025
    সময়কাল: 23 মিনিট 44 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    “মেয়েরা আবার ক্রিকেট খেলে নাকি?”

    দাঁড়ান দাঁড়ান, এটা শুধু একজনের মন্তব্য নয়। রেচেল হেহোর গল্পটা বলি।

    ১৯৪৭ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের পরে ইংল্যান্ডে তখন ঘর গোছানোর পালা চলছে। এমন সময় এক বিকেলবেলা একদল চ্যাংড়া ছেলে রাস্তায় ক্রিকেট খেলছে দেখে তাদের পুলিশ গিয়ে ধরল। একুশে আইনের দেশ ইংল্যান্ডে তার একশো বছর আগে থেকে কড়া নিয়ম ছিলো পাবলিক প্লেসে খেলাধুলা করা যাবে না। তো পুলিশ গিয়ে ছেলেপুলেদের ধরল। একটা মেয়েও ছিলো খেলার দলের মধ্যে। পুলিশ তাকে বলল,

    “ওহে খুকি, বাড়ি যাও দেখি? বাকিরা আমার সঙ্গে এসো। কুইক!”

    ছেলেদের দল বোধ হয় বলার চেষ্টা করেছিল খুকিও একই অপরাধে অপরাধী, কিন্তু পুলিশ সেসব কথা কানেই তুলল না। তাদের একটাই কথা, মেয়েরা আবার ক্রিকেট খেলে নাকি? এসব চ্যাংড়াদের হুজ্জুতি বই তো নয়?

    খুকি সেদিন বড় অপমানিত হয়ে বাড়ি ফিরেছিল। পুলিশের লম্বা লম্বা বুলির জবাব সে না হয় ব্যাটেই দিয়ে দিত আরও লম্বা লম্বা ছক্কা হাঁকিয়ে, ব্যাট বল কেড়ে না নিলে দেখিয়ে দিতই।