কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব দুই
সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP13 | প্রকাশিত: 25 জানুয়ারী 2026
সময়কাল: 14 মিনিট 15 সেকেন্ড
কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাকিনীবিদ্যার কথায় বামপন্থার একটা কথা উঠেছিল, মনে আছে? আচ্ছা এই মারি কি সেই মারি হয়ে ছুটে আসার আগে আর এক ধাপ এগোই? উঁকি মারা যাক বজ্রযানী গুহ্যসমাজতন্ত্রের দুনিয়ায়। এ এক অভূতপূর্ব মহাযোগ শ্রেণীর তন্ত্র, যে তন্ত্র বামাচার অনুশীলন যেমন মদ, যৌনাচার ও শ্নশান সাধনার মতো নিষিদ্ধ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রোধী দেবতাকে আহবান করতে শেখায়! বামাচার, অর্থাৎ কিনা বাম হাতের পথ!

কাজেই লগুড় হাতে এগিয়ে আসার দরকার নেই, বুঝলেন? এ বামপন্থা সে বামপন্থা নয়! এ হল যা কিছু প্রচলিত পদ্ধতির বিপরীতে। প্রচলিত পদ্ধতি বলতে দক্ষিণাচারী পন্থা। তাহলে বামাচারের ভাগে পড়ল, কী?

কুখ্যাত পঞ্চ ম-কার। মদ্য (মদ), মাংস, মৎস্য (মাছ), মুদ্রা (শস্যকণা) এবং মৈথুন। কী? জমে যাচ্ছে তো বিষয়টা?

হুঁহুঁ বাবা। এখনও জমতে ঢের দেরী। আমরা ছিলাম ডাইনী বা ডাকিনীবিদ্যায়। তা মাঝপথে বাঁ হাতি রাস্তাখানা নিলাম কেন? কারণ ঐ যে বজ্রযান শাখার থেকে উদ্ভূত হবে সহজযান শাখা, মোটামুটি আট থেকে বারোশ' খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে। এই মতবাদ অনুযায়ী, "বজ্রগুরু" নামে পরিচিত একজন প্রধান গুরুর মাধ্যমে পরম সুখ বা "সহজ" লাভ করা সম্ভব। এই বজ্র ধারার আদি ও পরমগুরু শাক্যমুনি স্বয়ং, যাঁর থেকে সরাসরি শিক্ষা লাভ করেন সেই আশ্চর্য বিদুষী, নাম নিগুড়া পা বা নিগু মা, উপাধী জ্ঞান ডাকিনী। রীতিমতো ঐতিহাসিক চরিত্র!

তবে অত বছর আগের অমন বিরাট ঐতিহাসিক চরিত্র, তাঁকে ঘিরে অজস্র গল্পকথা গড়ে উঠবেই। যদিও নিগুমা ব্যতিক্রম নন সেই সময় বহু নারী তন্ত্র সাধকের উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁদের উপাধী ডাকিনী বা যোগিনী। যোগসাধনার মধ্য দিয়ে যাঁরা সিদ্ধি লাভ করছেন, তাঁরা যোগিনী। ইয়ে মানে ‘ইয়োগা’ প্র্যাকটিস করলেই হবে না আর কি, যোগদর্শন এক বিবাট বিষয়, চিত্তবৃত্তিনিরোধ শিক্ষা করতে হবে। ডাকিনী শব্দটা আরও ভজঘট। তন্ত্রমার্গে শরীরমধ্যস্থ মূলাধার চক্র, যেখানে কুলকুণ্ডলিনী শক্তি সুপ্ত অবস্থায় থাকেন, সেই চক্রে অধিষ্ঠান করেন ডাকিনী শক্তি। যাক সে কথা, যোগসর্পের হাঁড়ি বেশি না খোলাই ভালো। মোট কথা নিগুমা ছিলেন জলজ্যান্ত প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের মূর্ত প্রতীক, বিভ্রমের দেবী, অদ্বৈত মাতৃকার পুজারিণী। লোকে তাঁকে ডাকে কৃষ্ণা ডাকিনী নামে, ঘোর কালো তাঁর গায়ের রঙ, তাঁর সর্বাঙ্গে হাড়ের মালা, একহাতে নরকপাল অন্যহাতে খাঁড়া। কি, চেনা চেনা লাগছে?

আপ ক্রোনোলজি সমঝ লিজিয়ে। বাংলায় সহজযান তন্ত্রের বিপুল জনপ্রিয়তার মূলে ঐ কৃষ্ণাঙ্গী ডাকিনী। মাতৃপূজক বাঙালি খুব সহজেই বজ্রযোগিনীর সাধনক্রমকে আপন করে নিল। নাঢ়োপা ও নিগুমা নাঢ়া নাঢ়ী নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের মতে এঁদের নাম থেকেই সহজিয়া সাধক সাধিকারা বাংলায় নেড়া নেড়ি নামে পরিচিত। এই সময়েই সহজযানের চর্যাপদে নৈরাত্মা, বজ্রযোগিনী, জাঙ্গুলি ডোম্বী, চণ্ডালী, শবরী রূপে বর্ণিত হচ্ছেন। কালী পূজিত হচ্ছেন নৈরাত্মা, চর্চিকা ও বজ্রযোগিনীর মণ্ডলে। এই ধারাটিই মধ্যযুগের সূচনাকালে সেনযুগের শেষে মা কালীর বর্তমান রূপ নির্মাণ করবে; যা আজও বাঙালির প্রাণের সাথে বাঁধা। মোদ্দা কথা হল বাঙলার আদি জনজাতির বিদ্যাধরীরা মিলেমিশে যাচ্ছেন সহজিয়া তন্ত্রের ডাকিনী যোগিনী অবতারের মধ্যে। যেহেতু সেই সব বিদ্যধরীরাও জানতেন নানা গুপ্ত বিদ্যা, শেকড় বাকড় লতা পাতার গুণ, হাওয়া বাতাসের গতিবিধি, চাঁদ সুর্য তারার অবস্থান, আরও কত কি - তাই তাঁদের সেই সব বিদ্যাও কালে দিনে ডাকিনী বিদ্যার সঙ্গে সমার্থক হয়ে যেতে থাকে।

ওদিকে প্রাচীন বাংলায়, চাষী, জেলে, ডোম, যোদ্ধা, শিকারি, ধাতুশিল্পীর বাংলায় শক্তিসাধনা এমনিতেই মাতৃকেন্দ্রিক - মনসা, চন্ডিকা, অন্নপূর্ণা, বাসুলী, জাঙ্গুলী, হারিতী, বনবিবি, হাড়িমা, এমন সব দেবতা যাঁদের অনায়াসে মা বলে ডাকা যায়।

এই সিলেবাস থেকে আসুন পোস্ট কলোনিয়াল যুগে ল্যান্ড করি। সরস্বতী মানেই এতদিনে খুব ভালো করে জানা হয়ে গিয়েছে ফুটফুটে ফর্সা মাটি নড়ে তো মেয়ে নড়ে না গুডি গার্ল। আমাদের বেদ উপনিষদের দর্শন বলেছিল বটে কিছু নতুন শিখতে গেলে পুরনো বিদ্যা স্মৃতি থেকে মুছতে হয়। কর্পোরেট ভাষায় যারে কয় আনলার্নিং। আর নতুন কিছু করতে গেলে সাদা ব্ল্যাঙ্ক ক্যানভাসই লাগে আর তাই সরস্বতী হলেন সাদা, কিন্তু সেসব এখন অতীত। এখন পাঁচতলা মল পুরোটাই বর্ণবাদ। উপনিষদের দর্শন পাখা মেলে উড়ে গেছে, পড়ে আছে ফর্সা রং। রইল বাকি দাঁত নখ আর জিভের ধারটুকু, ঔপনিবেশিক উকো দিয়ে ঘষে ফসসা করে দিয়েছেন কবিকুল, এই আর কি!

তাই বিংশ শতাব্দীর কল্লোল যুগে কী শুনলাম আমরা? কবি বুদ্ধদেব বসু লিখলেন,

বলতে পারো সরস্বতীর মস্ত কেন সম্মান?
বিদ্যে যদি বল তবে গণেশ কিছু কম যান?
সরস্বতী কী করেছেন? মহাভারত লেখেননি,
ভাব দেখে তো হচ্ছে মনে তর্ক করাও শেখেননি।
তিন-ভুবনে গণেশ দাদার নেই জুড়ি পাণ্ডিত্য,
অথচ তাঁর বোনের দিকেই ভক্তি কেন চিত্তে?
সমস্ত রাত ভেবে-ভেবে এই পেয়েছি উত্তর—
বিদ্যা মানে বলি তারই আর-একটি নাম সুন্দর।

হাউ মাউ খাউ, benevolent সেক্সিজমের গন্ধ পাঁউ! কবিবর তো বললেন মেয়েরা অবলা তো কি হয়েছে সুন্দর বটে! বিদ্যাই সুন্দর।

সুন্দর ব্যাসদেবের মঙ্গলাচরণে দেবী সরস্বতী -
নারায়ণং নমস্কৃত্য নরং চৈব নরোত্তমম্
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ

সুন্দর আমাদের হটু বিদ্যালঙ্কার, নিচু জাতের মেয়ে রূপমঞ্জরী থেকে মেয়েদের টোল পণ্ডিত বিদ্যালংকার হবার যাত্রাপথ পাড়ি দিতে পারেন কয়জনা?

সুন্দর আমাদের সাবিত্রীবাই ফুলের বিষ্ঠা মাখা আঁচল। নিচু জাতের মেয়ে হয়ে মেয়েদের স্কুল বানানোর স্পর্ধার খেসারত দিতেন তিনি। উঁচু জাতের মোড়ল পণ্ডিতরা বিষ্ঠা ছুঁড়ে স্কুল ঢোকা বানচাল করতে তৈরি থাকতেন রোজ। সাবিত্রীবাই থামেননি। দমেননি। একটা নোংরা চাদর মুড়ি দিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়তেন তিনি। জ্ঞানের সাধনার মার্গ সহজ নয়, তাই তো সে সুন্দর। সুন্দর আমাদের দুষ্ট সরস্বতী, নষ্ট সরস্বতী, ভ্রষ্ট সরস্বতীরা। সুন্দর শীলা ভট্টারিকার রেবা রোধসী। সুন্দর আমাদের বিকট নিতম্বার ইরোটিক শ্লোক।

বিকটনিতম্বা! কি ইন্টারেষ্টিং নাম! ইনি কে বলুন তো?

সব বিদ্যেধরীর নাম একবারে কি আর বলা যায়? ফিরব পরের এপিসোডে দেবী থেকে ডাইনি পর্ব তিন নিয়ে। থাকবেন রূপমঞ্জরী, বিকটনিতম্বা এবং আরও আরও বিদ্যেবতীদের কথা। ততদিন আমাদের বিদ্যেবতীরা পেট ভরে খেতে পাক। তাদের কলম আর জিভের ধার ও ভার বাড়ুক। আমরা মনে রাখি অন্নের সুষম বন্টনেই মঙ্গল।

প্রকৃত রসমঙ্গল।

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • Salt. Blood. Dissent.

    মলঙ্গি বিদ্রোহ, লবণ সত্যাগ্রহ থেকে সশস্ত্র বিপ্লবেও লোনা স্বাদ

    সিরিজ: স্বাধীনতার স্বাদ | পর্ব: EP05 | প্রকাশিত: 17 আগস্ট 2025
    সময়কাল: 28 মিনিট 51 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    স্বাধীনতার স্বাদ ঠিক কেমন ছিল? রক্ত ঘাম চোখের জলের মতো? নোনতা? রসমঙ্গল সমগ্রে আজ স্বাধীনতার স্বাদ দ্বিতীয় পর্ব। আমাদের এই পর্ব আজ স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজতে রসবতী থেকে নামবে মিছিলে, দাঁড়াবে শাসকের উদ্যত লাঠির সামনে, দৌড়বে সত্যাগ্রহ থেকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাঝখানে। মধ্যরাতে আসা স্বাধীনতা, উপনিবেশের ভূত তাড়ানো স্বাধীনতা। তার স্বাদের খোঁজ পাওয়া সোজা কথা নয়!

  • রথ দেখা কলা বেচা

    রথযাত্রার ভোগ, ভক্তির ইতিহাস

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP01 | প্রকাশিত: 22 জুন 2025
    সময়কাল: 22 মিনিট 21 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    বাঙালির রথ আসে পাঁপড় ভাজা মড়মড়িয়ে আর জিলিপির রস ঝরঝরিয়ে। ঐতিহ্য না লোকাচার? দূর মশাই, সব এসে মিলে যায় ভিয়েনে বসানো পেল্লাই কড়াইয়ের টগবগে তেলে। রথের দিনে জিলিপি, পাঁপড় ভাজা খাওনি? অ্যাই তুমি বাঙ্গালি তো? অথচ এই দু’টি খাবারের একটির জন্মও সম্ভবত বাংলায় নয়।

  • মন্বন্তর, আজাদ হিন্দ ফৌজ, নৌ বিদ্রোহ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে

    মন্বন্তর, আজাদ হিন্দ ফৌজ, নৌ বিদ্রোহ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে

    সিরিজ: স্বাধীনতার স্বাদ | পর্ব: EP06 | প্রকাশিত: 31 আগস্ট 2025
    সময়কাল: 28 মিনিট 51 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    স্বাধীনতার স্বাদ কেমন? জানতে আজ আমরা এসেছি যুদ্ধের আঙিনায়। কথায় বলে যুদ্ধ যারা চায় তারা যুদ্ধে যায় না। যুদ্ধে যারা যায়, তারা যুদ্ধ চায় না। সুন জু বলেছিলেন রক্তক্ষয় না করে শত্রুকে দমন করাই সর্বশ্রেষ্ঠ রণনীতি।এদিকে রক্ত না ঝরলে ইতিহাসের মোড়ও যে ঘোরে না? একটা পলাশীর যুদ্ধ ছাড়া কেমন করে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য পাটে বসত?

  • Podcast Banner - EP03 - রুটি থেকে ভাত

    সিপাহী বিদ্রোহ থেকে সেলুলার জেলের হেঁশেল

    সিরিজ: স্বাধীনতার স্বাদ | পর্ব: EP04 | প্রকাশিত: 03 আগস্ট 2025
    সময়কাল: 29 মিনিট 18 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পনেরই আগস্ট, ১৯৪৭, মধ্যরাত্রি। পৃথিবীর মানচিত্রে উদয় হল এক স্বাধীন দেশ, ভারতবর্ষ। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তৃতাটি দিয়ে জওহরলাল নেহরু উপস্থিত সবাইকে মতিচুরের লাড্ডু বিতরণ করে খাইয়েছিলেন। স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ- মিঠে না হয়ে যায় না। তিনি কি জয় হিন্দ সন্দেশের স্বাদ জানতেন? বা জয় হিন্দ বরফি? নিদেন পক্ষে নেহরু সন্দেশ?

  • উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে, যত দোষ AI ঘোষ?

    সিরিজ: সাময়িকী | পর্ব: Ep22 | প্রকাশিত: 12 এপ্রিল 2026
    সময়কাল: 18 মিনিট 21 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    প্রফেট সুকুমার রায় দেখিয়েছিলেন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে পড়লে কি কেলোর কীর্তিই না হয়। একশো বছর আগে তিনি তো আর জানতেন না, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলে এক বুধোর উদয় হবে আর ভালোমানুষ উদোর পাপের পোঁটলা পিন্ডি তার ঘাড়ে গিয়ে চাপবে? 

    উদোর পিন্ডি কেন বুধোর ঘাড়ে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মাথা নাড়ে।

    রহস্য জমজমাট!

  • দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব তিন

    দেবী থেকে ডাইনি কথা - পর্ব তিন

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP14 | প্রকাশিত: 01 ফেব্রুয়ারী 2026
    সময়কাল: 18 মিনিট 24 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    আমরা আজ বিদ্যেধরীদের গল্প বলব। নবরত্ন সভা থেকে আজকালপরশুর দুনিয়ায় আমরা আজ বিদ্যেধরীদের খবর নেব।

    ইয়েস নবরত্ন সভা। বরাহমিহির, বররুচি, অমরসিংহ, ক্ষপণক, শঙ্কু, বেতালভট্ট, ঘটকর্পর, ধন্বন্তরি - সব চাঁদের হাট। অবশ্যই সকলে পুরুষমানুষ (মহিলারা আবার রাজসভায় কাজ টাজ নিয়ে আসবে কেন?), সেরা পুরুষ এই নয় রত্ন। আর সেরার সেরা পুরুষ? যিনি প্রেমের ভাষ্য তৈরি করবেন কলমের আঁচড়ে?

    কালিদাস! এই অবধি পড়ে আপনারা শুধোবেন বিদ্যেধরীর কথায় কালিদাস? তাহলে কি সেই সরস্বতীর গল্পটা?

  • এপস্টিন ফাইলস

    এপস্টিন ফাইলস

    সিরিজ: সাময়িকী | পর্ব: EP15 | প্রকাশিত: 08 ফেব্রুয়ারী 2026
    সময়কাল: 23 মিনিট 14 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এপস্টিন ফাইলস। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনসেশনাল কনটেন্টের ভিড় একটু ব্যোমকে গিয়েছে এপস্টিন ফাইলস নিয়ে। কার নাম কোথায় কী মর্মে এলো তাই নিয়ে যেমন রাজনৈতিক ভাব সম্প্রসারণ চলছে, অন্যদিকে সেক্স স্ক্যান্ডালের রগরগে বর্ণনায় কেউ শিউরে উঠছেন, কেউ আবার ঠোঁট চেটে বলছেন মেয়েমানুষ পেলে অনেকসময় লঘু গুরু জ্ঞান থাকে বা, তাই বলে কি এতটা করতে আছে? বড় বড় মানুষ সব, বড় বড় ব্যাপার!

    তাই কী? এপস্টিন ফাইল শুধু কি বিলিয়নেয়ার বিজনেসম্যানের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি হিসেবে আলাদা কেস? একজন বিকৃত লোক, একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
    এপস্টিন ফাইল ও নারীশরীরের ইকোনোমি নিয়ে আসুন একটু কথা বলি। আগে একটু মূল ঘটনাটা জানা যাক। কে এই এপস্টিন? কী হয়েছিল?

  • লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর পাঁচালি - বচন থেকে রসনায় লক্ষ্মীর বদল - পাঁচালী কিংবা অদ্ভুত রামায়ণ

    সিরিজ: লোক ও লৌকিক | পর্ব: EP10 | প্রকাশিত: 26 অক্টোবার 2025
    সময়কাল: 31 মিনিট 39 সেকেন্ড
    কথক: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য , পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    কার্তিকী অমাবস্যা বড় ধুমধাম
    চতুর্দশীতে লই পূর্বনারীর নাম।
    অমানিশা তিথি অযোধ্যা পুণ্য ধাম
    চোদ্দ বছর পরে ফেরেন সিয়া রাম।
    দীপাবলির আলোকে জাগে দশ দিক।
    কোজাগর আশ্বিনের পর দীপান্বিতা কার্তিক।
    ক্ষেত জাগে, খনি জাগে, যতেক কুলি কামিন
    জেগে আছে সুখী দুঃখী সকল ভক্তজন।
    হিমালয় রোষে ওঠে, জগত কাতর
    ভরা নদী কূল ছাপে আশ্বিন ভাদর।
    মানুষের লোভে আজ মানুষেরে হানে
    এসো মাগো ত্বরা করি বাংলার থানে।
    লক্ষ্মী বলে ডাকি যারে করি তারে হেলা
    শস্য ধান্য আজ বিষে ধন্য হই গেলা।
    অলক্ষ্মী বলে যারে দিলা নির্বাসন
    সেই বুঝি করিত এই গরল নিবারণ।
    ভারত পড়িব আর ধরিব রামায়ণ।
    বহুকালের ইতিকথা করিব বর্ণন।
    ভানু মতি ভনে শোনো অদ্ভুত এই কথা
    লক্ষ্মী অলক্ষ্মীর এই আশ্চর্য গাথা।