কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
বর্ষামঙ্গল - গীতি-কবিতা আলেখ্য
সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 01 আগস্ট 2021 | সময়কাল: 44 মিনিট
গান: তৃণা চক্রবর্তী, জয়িতা ভট্টাচার্য, শ্রীপর্ণা চ্যাটার্জি, অমৃতা মুখার্জি, স্বাতী বিশ্বাস, পারমিতা চক্রবর্তী, গীতালি হালদার
কবিতা / পাঠ: শ্রেয়া লাহিড়ী, অর্পিতা পাল, অয়ন্তিকা দাস মণ্ডল, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমা দে, দীপান্বিতা লাহা, সাগরিকা চৌধুরী, প্রিয়াঙ্কা দাস কানুনগো, সুদেষ্ণা লাহিড়ী, সোমদত্তা মুখার্জি, অমলিতা খাঁড়া

ভূমিকা

ভরা বর্ষায় আঁচল পেতে বসে থাকে বঙ্গজননী। নদীনালার কূল ছাপিয়ে বন্যা হবে। কিছু রোয়া ধান ভেসে যাবে। কুঁড়ে গোয়াল ছেড়ে একটা ছাগল কি দুটো মুর্গি সম্বল করে হেঁটে যাবে চাষাভুষোর দল। সম্বচ্ছর উদ্বাস্তু হতে হয় তাদের। গ্রামের নেড়িগুলো অবাক চোখে দেখবে একরত্তি ভেলাগুলোতে তাদের ঠাঁই নেই। পরে, রোগব্যাধি ক্ষয়ক্ষতির ষোলকলা পূর্ণ করে, জল সরবে, রেখে যাবে প্লাবনভূমির উত্তরাধিকার।

ভরা বর্ষায় জল বাড়ে তাড়াতাড়ি। নদীতে, রাস্তায়, খাদানে কুলি কামিনরা কাজ বন্ধ করবে, কখনও তার আগেই ঘটে যাবে দুর্ঘটনা। ডুবে নিখোঁজ হয়ে যেতে যেতে মজুরদের মনে পড়বে না কতপুরুষ আগে, বিদেশী রাজাদের শিল্পবিপ্লব হওয়ার আগে, তাদের হাতে লাঙল ছিল, জল সরলে তারা সোনা ফলাত। কোনও এক গাঁয়ের বধূর গোলাভরা ধান ছিলো, উঠোনে আলপনা ছিলো। সে থাক। অপঘাত মানুষকে জাতিস্মর করবে এমন কোনো কথা নেই।

বর্ষামঙ্গল - আমাদের শেকড়ের কথা। গানে কবিতায় ছবি আঁকি।

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

কথন 

মরুভূমি থেকে দলে দলে শ্বেতাঙ্গ আর্য সিন্ধু উপত্যকায় পৌঁছে জম্বুদ্বীপে পেয়েছিল নতুন দেশ, দেখেছিল যে দেশে পূর্ণগর্ভা মেঘ এসে ভিজিয়ে দেয় তৃষার্ত ভূমি, বীজের অঙ্কুরোদ্গম আপনি ঘটে যায়, যে দেশে খাদ্যের জন্য রক্তদর্শন অবধারিত নয়, সেই দেশে বাস করা যায়, যাযাবর জীবন গার্হস্থ্য পায়।

কে বলতে পারে হাজার হাজার বছর আগে আর্য অতিথিদের হর্ষধ্বনি মিশে গিয়েছিল হয়ত অনার্য ভূমিকন্যা ভূমিপুত্রদের দ্রিম দ্রিম বর্ষামঙ্গলের তালে? কে দেখেছে?

গান 

কথন 

শস্য চেনা হল, ভূমি কর্ষণ হল। নতুন আগন্তুকের দলের সঙ্গে এল নতুন রোগ, ব্যাধি। অনার্যভূমি চিনল মহামারী। আর্যাবর্তের পত্তন হল সিন্ধু, গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, নর্মদার স্রোত অনুসরণ করে। এর অনেক অনেক চাঁদ পরে, ততদিনে রোহিনীর জলের বিবাদে রক্তক্ষয় দেখে সিদ্ধার্থ হয়েছেন তথাগত, ষোড়শ মহাজনপদ এক রাজছত্রের তলায় শোভা পাচ্ছে, সেই ততদিনে কবিকুলতিলক হাতির মত ভারী মেঘ দেখে লেখছেন বিরহী যক্ষের মিলন আর্তি। হে ভারত, আরোও অনেক অনেক বর্ষা পরেও প্রেম পেলে তুমি? মাতৃভৃমি?

গান 

কথন 

কবিবর, কবে কোন্ বিস্মৃত বরষে/ কোন পুণ্য আষাঢ়ের প্রথম দিবসে/ লিখেছিলে মেঘদূত। মেঘমন্দ্র শ্লোক বিশ্বের বিরহী যত সকলের শোক/রাখিয়াছ আপন আঁধার স্তরে স্তরে/ সঘন সংগীত মাঝে পূঞ্জীভূত ক’রে।

গান 

কথন

বর্ষায় ভিজে ফুটবল খেলাটা দস্তুর, বালকদের জন্য। বর্ষায় ছাতা নিয়ে সাবধানে স্কুলে যাওয়া দস্তুর, বালিকাদের জন্য। কে করে দিল এই দস্তুর? সেই যে শস্যে, খাদ্যে তৃপ্ত ইন্দ্রপূজারীরা শিকার কমিয়ে দিলেন, সেই থেকে, বল্লম, তীর ছুঁড়তে, খ্যাপা শুয়োরকে হুড়ো দিতে দলে ভারী হতে লাগে না বুঝি আজ? নারী মন দেবে সন্তানপালনে, পশুপালনে, ব্যাস, এই? অভিশাপ লাগবে না? কেমন হবে যদি মৌসুমী বায়ু বেছে নেয় কোনো ঘুরপথ? যদি বর্ষা বলে, আর আসব না? ভয় পেতে শেখ হে সমাজ, আর সময় নেই বিশেষ। ঐ দেখ কোন পাগলিনী গায়

গান 

কথন 

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মত চরে
পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে-
'অবনী বাড়ি আছো'?

বাড়িতে থাকা যায়? থাকতে দিলে তো? মেঘ নাকি কোনকালে কোন যক্ষের ভালোবাসার চিঠি পৌঁছে দিয়েছিল, সেই ভালোমানুষ মেঘেদের দিন গেছে গো কবি। জান, নিশির ডাকের মত মেঘ এখন মানুষ ধরে নিয়ে যায়? তারপরে তাদের কোন অচিনপুরে নিয়ে রেখে দেয়,সেখানে সে হতভাগা মানুষের বুকের ভেতরে, মাথার মধ্যে - 

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মত চরে
পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে -
ঠিক, যেন, রূপকথা! না?

কবিতা 

কথন 

মেঘ মল্লারের অনিবার্য উত্তরাধিকার আমাদের। রাত্রি দ্বিপ্রহর হোক বা বর্ষণমুখর আশ্চর্য মুহূর্ত, শুকনো বেহড় হোক কিংবা নুনে জমাট গরম কচ্ছের রান, সঙ্গীত থেকে যায় আমাদের শেষ আশ্রয়। কাবেরী থেকে তিস্তা, নর্মদা থেকে নমো গঙ্গে, পানির এই দেশ, জলের এই দেশেই ফারহাদ খুঁড়েছিল পাহাড়, সুলতানের প্রাসাদ অবধি সুলতানের সাধের দুধের নদী বানাতে। শিরিন মরে গেছে শুনে আশিক দিওয়ানা ফারহাদ মাথায় গাঁইতি ঠুকে মরে গেল যেদিন তার সদ্য খোঁড়া খাতে দুধ নয়, জল নয়, বইল রক্তের ধারা। কত বৃষ্টি হলে, আর কত বৃষ্টি হলে রক্তের দাগ মোছে ঠিক? মরশুমী কদম জানে? মালহার জানে?

গান

কথন 

বর্ষা শুধু দিতে তো আসে না? বেছে বেছে সে বলি নিয়ে যায় মর্জিমাফিক। কাদের নেই মাথার ছাউনি, কার ঘর গেছে তলিয়ে হঠাৎ জেগে ওঠা নদীর রাক্ষুসে হাঁয়ে, কারা নাকি আদৌ ভেসে যায়নি কোনোদিন, সরকারি অঙ্কে তারা হঠাৎ নিখোঁজ কিছু নম্বর হয়ে যায়। কারা ফিরতে চায়, শুখারুটি, ছাতুমুড়ি থেকে মাছভাতের সুদিনে ফেরার রাস্তা বড় দীর্ঘ। তাই বলে যাত্রা কবে আর থেমেছে? কুমীরমারি, কচুখালি, রাঙাবেলিয়ার বাদাবনের কোনো গৃহস্থ কুঁড়েতে হয়ত বেঁচে আছে এখনও দুটো ছাগল, একঘর মুর্গি, কিংবা এক-আধটা জলজ্যান্ত মানুষ। বিকিকিনির বাজারে নিলেম হয়ে যাওয়া বঁধু কখনও ফিরবেই, এই আশায় বসে থাকা, ফুলেফেঁপে ওঠা মাতলার ধারে ঘর সামলে বসে থাকা। বর্ষা শুধু দিতে তো আসে না?

গান 

কথন 

বর্ষা বুঝি মন খারাপের ঋতুও বটে? সেকালে বানভাসি গ্রামে দিনের পর দিন মেয়ে বৌরা চারপাইতে পা মুড়ে বসে ফেলে দেওয়া কাপড় জুড়ে জুড়ে নকশায় ফুটিয়ে তুলত প্রেম, বিরহ, প্রকৃতির মনের কথাগুলি। পরে সওদাগরেরা তার গালভরা নাম দেয় কাঁথা সেলাই অমুক তমুক বলে, তারপরে সে বানভাসি গ্রাম সময়ের জঠরে তলিয়ে গিয়েছে। রয়ে গেছে নকশি কাঁথার বুননে বোনা মন খারাপের গল্পগুলো। তেমন তেমন মুহূর্তে, সে একঘেয়ে বর্ষার রাত হোক কিংবা ঝকঝকে জলের রোদ, যদি হঠাৎ করে অন্যমনস্ক হওয়া যায়, পুবের হাওয়ার মত হু হু করে ঢুকে পড়ে সেই সব ভোলা গল্প অবচেতনের গভীরে। মন খারাপের দিনরাত আচ্ছন্ন করে দেয় অবুঝ কান্নায়। 

'এক-একটা দুপুরে এক-একটা পরিপূর্ণ জীবন অতিবাহিত হ'য়ে যায় যেন'

কবিতা 

কথন 

সেই তো এক একটা রেনি ডে মনে থেকেই যায়, যায় না? আধভিজে শাড়িতে আলো আঁধার জনবিরল ক্লাসে বসে থাকা। তেমন করে বর্ষা নামলে অনেক বন্ধুই পৌঁছতে পারত না স্কুল অবধি। আর যারা সেই পৌঁছেই যায়, তাদের কথা বলার, ঝগড়া করার সেই বন্ধুর বসার জায়গাটা খালি থাকত, হয়ত আজও আছে? কে জানে, কে বলতে পারে? Mad Balikas জানে?

গান

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 13 মার্চ 2022 | সময়কাল: 34 মিনিট 32 সেকেন্ড

    মাধবী পাহাড় ডিঙিয়ে বেড়ায়। পূজা অ্যাম্বুলেন্স চালায়। রেশমী স্টান্টলেডি ছিল, এখন চোট পেয়ে বসে গিয়ে ক্লাউড কিচেন চালায়। মনোদিদি সমাজের ভ্যালিডেশনের উল্টোদিকে থাকে, লোকে যাকে বলে পাগল। মনোদিদি মন ভালো করতে কবিতা পড়ে। মালতী বেকার মানুষ, মাধবীর জন্য সমাজ-বিরুদ্ধ সমপ্রেম নিয়ে বসে থাকে। শ্যামলী গিগ কর্মী, অ্যাসিড এটাক ভিক্টিম থেকে সার্ভাইভার হবার লড়াই করে যায়। শতভিষা এয়ারফোর্সে আছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফেরাতে গিয়ে কোনো এক মাধবীর সন্ধান পায় সে। এই মেয়েদের বসন্ত যাপনের গল্প যা কিনা শ্রেণিভেদে সমান্তরাল হবার কথা ছিলো তা মিলে যায় কোনও অপ্রত্যাশিত প্রতিচ্ছেদে। এই নিয়ে গীতি-কবিতা আলেখ্য মধুর বসন্ত, সেই সমস্ত মেয়েদের জন্য, যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া। কথনের কিছু অংশ রইল এখানে।

  • তিহার থেকে বলছি

    তিহার থেকে বলছি

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 08 মে 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 27 মিনিট 25 সেকেন্ড

    শ্রুতিনাটক তিহার থেকে বলছি রবিপ্রেমের ফসল। রবীন্দ্রনাথের তিনটি উপন্যাস শেষের কবিতা, ঘরে বাইরে এবং চতুরঙ্গের কিছু অংশ এক কাল্পনিক চরিত্র আসিফার দৃষ্টিতে পাঠ করব আমরা। আসিফা এক রাজবন্দী। লাবণ্য, বিমলা, দামিনীর অন্বেষণে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত মিশে যায়।

    রাজবন্দী আসিফার মোট তিনটি উপাখ্যান আছে, তিহার থেকে বলছি তার প্রথম কিস্তি। নাটকের মৌলিক অংশটি রইল।

  • বিষকন্যা

    বিষকন্যা

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 05 নভেম্বর 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 30 মিনিট 21 সেকেন্ড

    প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির এক অমোঘ দৈব অস্ত্র বিষকন্যা। এক অপরূপা মোহিনী নারী - যে পুরুষ তাঁকে কামনা করে তার সর্বনাশ হয়। সে রাজাই হোক বা অমাত্য। কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই এমন অস্তিত্বের, তবু কল্পকাহিনীতে এই নিয়ে কত গল্প হয়েছে তার লেখাজোখা নেই। যেমন, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের প্রবল জনপ্রিয় ঐতিহাসিক কাহিনী বিষকন্যা। ষোড়শ মহাজনপদের এই কাহিনীর আর একটি চিত্রনাট্যরূপ উপন্যাস তিনি লিখেছেন - “বহু যুগের ওপার হতে”।

    আমাদের এই শ্রুতিনাটক এই দুইটি কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। নাটকের প্রেম প্রতিশোধের ট্র্যাক অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা উল্কাকে সামান্য বেশি অধিকার দেবার চেষ্টা করেছি। রতিক্রীড়ায় পারদর্শিতাকে ছাপিয়ে রাজনীতির সিদ্ধান্তের অধিকার, তাও পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যে, সেসব চাইলে এক বিষকন্যাকে কতটা কী পেতে হয় এইটুকুই আমাদের খোঁজ এই নাটকে। সংলাপের অংশবিশেষ এখানে থাকল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩ - বাঘা যতীন

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩

    বাঘা যতীন

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 21 মিনিট 38 সেকেন্ড

    1915 সালে নয়ই সেপ্টেম্বর যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন পাঁচজন সহযোদ্ধা নিয়ে তিনশো ইংরেজ সৈন্যর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। সেই সৈন্যবাহিনীতে টেগার্ট নিজেও ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের তরফে। টেগার্টের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • শ্রুতি নাটক - বিদূষক

    বিদূষক

    এডগার অ্যালান পোয়ের ছোটগল্প হপ-ফ্রগ অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 31 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 26 মিনিট 25 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো “Hop-Frog” নামে একটি ছোটগল্প লিখেছিলেন, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে। Hop-Frog নামের এক বামন ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তি রাজার বিদূষক। তার একমাত্র বন্ধু ছিল ট্রিপেটা নামের এক বামন মেয়ে।রাজা ও তার সাত মন্ত্রী ছিল নিষ্ঠুর ও নৃশংস;  Hop-Frog-কে নিয়মিত অপমান করে, জোর করে মদ খাইয়ে মজা লুটত। এক বিশেষ ভোজসভায় Hop-Frog প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজে পায়।

    হপফ্রগ গল্প হরর, রিভেঞ্জ যত ততটাই মেটাফরিক। রাজা আর তার সাত মন্ত্রীর কাণ্ড দেখে মনে হয়, এরা আদৌ আটটা আলাদা লোক না একই ইউনিট? একটাই রাষ্ট্র, একটাই দফতর, একটাই কুর্সি, সেইরকম না তো? ফ্যাসিজম তো অনেকটা ঐ রাজার মতন, ক্ষমতার মদে দিশেহারা হয়ে যাকে তাকে কামড়ে দেয়। তো কে পারে তার শোধ তুলতে? কী হয় শোধ তোলার পরে? কেমন হয় যদি এই বিন্দুগুলো ঘুরে যায়? পাওয়ার স্ট্রাকচারে যে যেখানে সে সেভাবে তার স্বৈরাচার চালিয়ে যায়, যতক্ষণ তার মেয়াদ। সিংহাসন তার কাজ করে যায়। এইটুকুই?

    এই উত্তরগুলো খুঁজেছি আমরা এই গল্পের অনুপ্রেরণায় লিখিত শ্রুতিনাটক বিদূষকে। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • Ajeeb Dastaan - বাঈজীদের গল্প

    Ajeeb Dastaan - বাঈজীদের গল্প

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 06 মার্চ 2022 | সময়কাল: 26 মিনিট 41 সেকেন্ড
    প্রাপ্ত-বয়স্কদের জন্য

    বিস্মৃত যুগের নগরবধূ থেকে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ইন্ডিয়ান উপনিবেশের বাঈজীদের ব্যাপ্তিতে আমরা খুঁজতে চেয়েছি নটীদের সামাজিক অবস্থানের বিবর্তনের ইতিহাস। এই শ্রুতিনাটক কাল্পনিক হলেও যে ইতিহাসের গল্প আমরা বলেছি তা আমাদের উপনিবেশের অমোঘ সত্য।

  • শুধু তোমার জন্য ব্যানার

    শুধু তোমার জন্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 26 সেপ্টেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 29 মিনিট 16 সেকেন্ড

    আসিফা ফেরারী জীবনের শেষ রাতে জ্বরের ঘোরে এক তেঁতুল গাছের সঙ্গে গল্প করছিল। সে গল্পে দেবদাস আছে, বিদ্যাপতি আছেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত আছে, আর আছে এক প্রেমের গল্প - তোমাকে চাই। সেসব নিয়েই শ্রুতিনাটক শুধু তোমার জন্য, আসিফা ট্রিলজির দ্বিতীয় অংশ।এর শুরুতে আছে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে শ্রুতিনাটক দেবদাস পাঠ অভিনয়। আর ক্লাইম্যাক্সে আছে ও’হেনরীর “A Service of Love” গল্পের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত শ্রুতিনাটক “তোমাকে চাই।”

  • দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 19 ডিসেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 36 মিনিট 9 সেকেন্ড

    দ্রোহকাল একটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী। গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক এই কাহিনী অজাতশত্রুর রাজত্বের প্রথমদিকের ঘটনাবলীর ওপর আধারিত। চারশ নব্বই খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ অজাতশত্রুর বৈশালী আক্রমণের পর থেকে মগধের তৎকালীন রাজধানী রাজগৃহে এই কাহিনীর সূত্রপাত। রবীন্দ্রনাথের পূজারিণী কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ আছে, এমনকি বাণী বসুর মৈত্রেয় জাতকের দ্বিতীয় পর্বেও যার আভাস পাওয়া যায়, সেই শ্রীমতির অর্ঘ্যদানের দ্রোহ সম্বল করে শ্রুতিনাটক- দ্রোহকাল। তিন পর্বে প্রকাশিত।

    এই কাহিনী আমাদের আসিফা ট্রিলজির শেষ কিস্তিও বটে। তিহার থেকে বলছি এবং শুধু তোমার জন্যর পর আমরা শেষবার দেখা পাব আসিফার। 

    নাটকের প্রধান চরিত্রে আছেন অজাতশত্রু, দেবদত্ত, শ্রীমতি, আম্রপালী এবং এক বিদেশী।

    এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।