ভূমিকা
মাধবী পাহাড় ডিঙিয়ে বেড়ায়। পূজা অ্যাম্বুলেন্স চালায়। রেশমী স্টান্টলেডি ছিল, এখন চোট পেয়ে বসে গিয়ে ক্লাউড কিচেন চালায়। মনোদিদি সমাজের ভ্যালিডেশনের উল্টোদিকে থাকে, লোকে যাকে বলে পাগল। মনোদিদি মন ভালো করতে কবিতা পড়ে। মালতী বেকার মানুষ, মাধবীর জন্য সমাজ-বিরুদ্ধ সমপ্রেম নিয়ে বসে থাকে। শ্যামলী গিগ কর্মী, অ্যাসিড এটাক ভিক্টিম থেকে সার্ভাইভার হবার লড়াই করে যায়। শতভিষা এয়ারফোর্সে আছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফেরাতে গিয়ে কোনো এক মাধবীর সন্ধান পায় সে। এই মেয়েদের বসন্ত যাপনের গল্প যা কিনা শ্রেণিভেদে সমান্তরাল হবার কথা ছিলো তা মিলে যায় কোনও অপ্রত্যাশিত প্রতিচ্ছেদে। এই নিয়ে গীতি-কবিতা আলেখ্য মধুর বসন্ত, সেই সমস্ত মেয়েদের জন্য, যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া। কথনের কিছু অংশ রইল এখানে।
নির্বাচিত চিত্রনাট্য
মাধবী
আমি মাধবী। মাউন্টেনিয়ার।
হিমালয় থেকে আল্পস থেকে আন্দিজ - শিখর হইতে শিখরে ছুটিব, ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব - এই আমার জীবনের ব্রত। পাহাড় আমায় টানে। এত জায়গায় গেছি, কিন্তু দেখেছি জানেন, বসন্ত এলে পৃথিবীর প্রাচীনতম নগরীরও যেন বয়স কমে যায়। পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে আমার জন্ম, কোথাও নোঙর ফেলে দু-দণ্ড জিরোনো হয় না ঠিক, কিন্তু এই সময়টা এলে যেন মনে হয় কেউ ফাগের থালা হাতে আসুক আমার ভুলে যাওয়া ডাক নাম ধরে। মনে হয়, একবার কলকাতায় ফিরি, যদি তার রাগ এতদিনে কমে থাকে? এই বসন্তেই তো তার জন্মদিন! মধু ভোলেনি।
গান
পূজা
আমি পূজা। অ্যাম্বুলেন্স চালাই। এই বসন্তকাল এলেই একটু ডর লাগে আমার। এত অ্যাকসিডেন্ট হয়, কি বলব। হোলির দিন অ্যাসিড অ্যাটাকের কেস ভরে ভরে। এমার্জেন্সি ডিউটি। হোলিতে ছুটি নাই, ঘরের লোকজনও জানে। আমিও বলি, ডিউটি আগে। পরে ছুটি নিয়ে একটু মুর্গি একটু পনীর বানাই। সব্বাই হ্যাপি হয়ে যায়। আর একটা মুভি দেখি। ঐ উত্তমকুমারের যে কোনো মুভি হলেই হল।
গান
রেশমী
আমি রেশমী। এস্টান্টলেডি ছিলাম, তারপর শুটিঙের সময় অ্যাকসিডেন হল, থাইয়ে লাগল। লাফঝাঁপ সব বন্ধ। এখন রোলের দোকান দিসি। লকডাউনে পড়ে পড়ে মার খেইসি, দোকান তো বন্দ। তকন মেয়ে বলল ঐ কেলাউড কিসেন করতে। কি হয়, লোকে অডার দেয় পয়সা দেয় সব ফোনে। আমি একটা এসমাট ফোন কিনে ফেললাম। তো রোল চাউ ফেরাডাইস চিলি চিকেন সব রেঁধে পৌঁছে দিসি। এখন তো দোকান খুলসে, কেলাউড কিসেনও চলসে। শীতকাল থেকে এই ফাগুন মাস অবধি পিক সেল। লোকে হুলিয়ে খাসসে। মেয়ে খুসি, আমিও খুসি
গান
মালতী
আমি মালতী। বেকার মানুষ। বাপ মায়ের হোটেলে থাকি, বই পড়ি, লেখালেখি করি। বসন্তকাল আমি একেবারে সহ্য করতে পারি না। সারা গায়ে অ্যালার্জি হয়। পোলেন অ্যালার্জি তো। ঘরে বসে বই পড়ি, মুখপোড়া কোকিলের ডাক শুনলেই জোর ভলুমে গান চালিয়ে দিই। আর - আর যখন খুব খুব অসহ্য লাগে তখন ফেসবুকে ছোটলোকটাকে খুঁজি। তিনি তো পাহাড় চড়েন, স্টেস্টাসে লেখেন পায়ের তলায় সর্ষে। আমার কথা কি আর তার মনে পড়বে? মাধবী! বাহারি নাম কত। ও তো মধু। কেউ ডাকে ওকে মধু বলে আর? কি হবে এসব ভেবে? আমারও মরণ! আমার মধুমালতী গাছে কুঁড়ি এসেছে, আজ আমার জন্মদিন, আমি এখন গান শুনব আর কারুর কথা ভাবব না। হুঁ।
গান
মনোদিদি
পাভলভে ভর্তি হবার আগে আমার একটা নাম ছিল। এখন ভাবি, নামে কি আসে যায়! বরকে ঘুষ নিতে বারণ করলাম, লোকে বলল পাগল। ভাইকে মেয়েবাজি করতে বারণ করলাম, লোকে বলল পাগল। বন্ধুকে বৌ পেটাতে দেখে উল্টে থাবড়া দিলাম, লোকে বলল পাগল! হ্যাঁ আমি পাগল। এটাই ভালো নাম। একটা কেকের বিজনেস চালাই, পাভলভের আমার মত রুগী যাদের সেরে উঠেও বাড়ি ফেরা হয় না, তাদের সঙ্গে বিজনেস চালাই। ওরা আমাকে মনোদিদি বলে, আর আমি মন ভালো থাকলে ওদের কবিতা শোনাই। বসন্তকাল, আজ নবারুণ পড়ব, শুনবেন?