কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
শরতের খোলা খাম ব্যানার
সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: তৃণা চক্রবর্তী, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 10 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 59 মিনিট 32 সেকেন্ড
চরিত্রলিপি:
  • সাদিকের চিঠি | সোমা দে, শ্রেয়া লাহিড়ী, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  • অনামিকার চিঠি | সাগরিকা চৌধুরী, সুদেষ্ণা লাহিড়ী, তৃণা চক্রবর্তী, অয়ন্তিকা দাস মণ্ডল, দীপান্বিতা লাহা, জয়িতা ভট্টাচার্য
  • কথক | প্রমিতি গণ
  • য়মনসিংহ গীতিকা মলুয়া পালা | সোমা দে, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
গান: শ্রেয়া লাহিড়ী, সোমা দে, অর্পিতা পাল, অমলিতা খাঁড়া, জয়িতা ভট্টাচার্য, তৃণা চক্রবর্তী, অয়ন্তিকা দাস মণ্ডল, অমৃতা মুখার্জি, শ্রীপর্ণা চ্যাটার্জি, গীতালি হালদার

ভূমিকা

সাদিক হোসেন, সাকিন মুর্শিদাবাদ

অনামিকা মিত্র, সাকিন উত্তর কলকাতা

রাজযোটক যে নয় সাদিক-অনামিকা তা জানতে কোষ্ঠীবিচার লাগবে না। দুর্গ্রহলগ্নে ওদের জন্ম। তাই তো নেট পরীক্ষা দিতে গিয়ে পাশাপাশি সিট পড়ে। সময় বুঝে কালি খতম হয়ে যায় সাদিকের। ঝট করে পেন বাড়িয়ে দেয় পাশ থেকে অচেনা অনামিকা। ডটপেনের মূল্যবাবদ পরীক্ষার পরের চা আর প্রজাপতি বিস্কুটটা অফার করে সাদিক। তারপর? অনামিকার গালে টোল পড়ে, সাদিকের গিটারে বোল ধরে, কাশফুলে লাগে দোল। যা হবার তাই হয়। অথচ তখন সদ্য নয়ের দশক। বাবরি মসজিদ অক্ষত। ভাবা যায়?

সাদিক অনামিকার প্রেমটা বেশিদিন টেকেনি। কিন্তু টেঁকসই প্রেম ঠিক কেমন? এই যে প্রতি পুজোয় এরা এখনও একজন আরেকজনকে মনে করে চিঠি লেখে, লিখে সে চিঠি রেখে দেয় যার যার ডায়রিতে, এটা প্রেম, না অন্য কিছু? এই চিঠি আর কিছু গান কবিতা নিয়ে শ্রুতিনাটক শরতের খোলা খাম। কিছু চিঠি থাকল এখানে আপনাদের জন্য।

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

সাদিক: চিঠি - এক

অনামিকা,

এই প্রথম দুর্গাষষ্ঠী, তোমাকে ছাড়া। ক'টা ষষ্ঠীই বা পেয়েছি আমরা! ক'টা ঈদ পেয়েছি, বল? আমি সেই পেনটা দিয়ে লিখছি এখন। সেই পেন, তুমি দিয়েছিলে নেট পরীক্ষার সময়। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। ওর নাম রেখেছি আংটি। অনামিকার আংটি। কেমন, বেশ নাম, না?

এখন সবে সূর্য উঠি উঠি করছে। ঈদের সময় রোদটা বড় তীব্র হয়। একটু বেশি ঝলমলে। তুমি থাকলে কাজে দিত, তোমাকে দেখতে পেতুম দু চোখ ভরে। কিন্তু, কিন্তু, এখন এত আলো নিয়ে কি করব আমি বলতে পার?

ভাগ্যিস এ চিঠি তোমার বাড়ি পৌঁছাবে না। নৈলে এতক্ষণে তুমি হেসেই কুটোপাটি হতে। বেশি হাসলে তোমার চিবুকে, গালে লালচে আভা ধরে। এখনও ধরে? অনামিকা, আমাকে মনে পড়ে?

কেমন পাগলের মত বকছি। দিদির কথা বড্ড মনে পড়ছে। বলিনি তোমাকে বোধহয়, আমার একটা দিদি ছিল, সাবিনা। পিঠোপিঠি। পুজোর সময় ভোরবেলায় ওর গায়ের গন্ধ পাই ,জান? বিয়েবাড়ির বাসী খাবার লুকিয়ে চেয়ে খেয়েছিলাম আমরা। দুদিনের ভেদবমিতে চলে গেল দিদিটা। আমার কিচ্ছু হল না।

পুজোর ভোরে শিউলি কুড়োতে নিয়ে যেত আমাকে। হিঁদুপাড়ার দেখাদেখি শিউলির বোঁটা দিয়ে কোরা কাপড় ছাপাত। পাগলী দিদিটা আমার।

ছেলেবেলাই ভালো ছিল, বুঝলে? অনামিকা?

অনামিকা: চিঠি দুই

‍সাদিক,

এ চিঠি আমার আকাশ এর ঠিকানায়। প্রয়োজন ছিল না ঠিকানা নেওয়ার। আকাশ বাতাস জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। শরৎ এর আগমন বার্তা মনে করিয়ে দেয় তোমার সাথে প্রথম পুজো কাটানোর কথা। মনে আছে তোমার, সেইবার হেঁটে হেঁটে আমার পায়ে ফোস্কা। তখন কত টাকাই বা ছিল? তুমি বললে রিক্সা করে আমায় পৌঁছে দেবে। আমার মানা শুনলেই না! তুমি খুব আনন্দ পেতে পুজোর কলকাতাকে। আর আমার আড়ম্বর কোন কালেই পছন্দ নয়। তাও তোমার সঙ্গ পাবার লোভ!!! আজ ভাবি আর মজাই লাগে।

তবে আমার ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি কিন্তু দেশের বাড়িতে। বাবা যদ্দিন ছিলেন হল্লা করেই কাটত। জ্ঞাতি ভাই বোনেরা আসত। সারাদিন শুধুই দস্যিপনা, মায়ের বকুনি নেই। বড় সুন্দর ছিল দিন গুলো।

বিনামেঘে বজ্রপাতে বাবার চলে যাওয়া। পুজোগুলো ধূসর হয়ে গেল, জানো? দেশের বাড়ি যেতেই চাইতাম না। জেঠু জোর করে নিয়ে যেতেন। চুপচাপ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতাম। ভোরে উঠে দেখতাম উঠোনের ঘাস এর উপর শিশির জমেছে। হাত বুলিয়ে চোখে লাগাতাম সেই শিশির। তাতে কান্না থাকত মিশে। শিউলির গন্ধে ঘুম আসত না।

আজও পুজোর আয়োজন হয়। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হয়। তবুও মনটা ছোটবেলার সেই আনন্দের দিন গুলোর জন্য আকুল হয়। যদি আর কখনও ফিরে আসত দিনগুলো!

সাদিক: চিঠি-তিন

অনামিকা,

চাকরি, বাকরি আমার দ্বারা আর হল না, বুঝলে? আম্মু বলেছিল গোস্তের দোকান দিতে, তাও দিইনি অপদার্থ কুলাঙ্গার আমি, বুঝলে অনামিকা?

নাকি, সুপর্ণা বলে ডাকব তোমায়? দুর্গাপুজোর এমন এক বিকেলে প্রোপোজ করেছিলে তুমি, আমি তখন মনে মনে তোমাকে সুপর্ণা বলে ডেকেছিলাম। এমনিই, ইচ্ছে হয়েছিল, তাই। শুনলে অবাক হতে, সুপর্ণা?

মেটিয়াবুরুজে এসেছি, সেলাইয়ের নমুনা নিয়ে। সূঁচসুতো আমার কম্ম নয়, আমার এক খালা জুটেছে, তার এতিম মেয়েদের আশ্রমের দেখাশুনো করি। ক্ষয়াটে আঙুলে রোগাসোগা মেয়েগুলো কত কী নকশা তোলে। ওদের বেশির ভাগই ঠকানো বিয়ে করে বেচাকেনার হাট ঘুরে আসা। খালা কোথা থেকে কীভাবে নিয়ে আসে ওদের।

ওদের বাপের বাড়ি ফেরা হয় না। তুমি শুনলে অবাক হতে, সুপর্ণা?

অনামিকা - চিঠি চার

সাদিক,

ভাগ্যক্রমে চাকরিটা হয়েই গেল। ভাগ্যদেবী প্রসন্ন ছিলেন বোধ করি। না কি ভেবেছিলেন, অনেক তো হল, এ বেচারাকে এবার তো একটু স্বস্তি দিই!

জানো, বাবার চলে যাওয়ার পর মাকে দেখেছি, কত কষ্ট করতে। কোনো কোনোদিন একবেলা খাবার এর যোগাড় হত। কিন্তু পড়াশোনার জন্য কোনো অভাব রাখেন নি। শুধু বলতেন, 'তোকে কিছু একটা করতেই হবে , মামণি'।

আর তাই বোধ হয় কোনোদিন বসন্ত আসেনি আমার কাছে। আর যখন এল--- আমি ভাসতে ভাসতে এতদূর চলে গেলাম, কূল কিনারা পেলাম না।

কি পাগলামি! মনে আছে তোমার? নবমীর ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে….. হাতটা ধরে বলেছিলাম, “আমি তোমার প্রেমে পড়েছি!” তোমার তখন কি জোর বিষম লাগল! আমি হেসে উঠেছিলাম। কি ছিল তোমার শান্ত চোখ দুটোয় সেদিন? আমি যে সত্যি বলেছিলাম, সেটাই কি তুমি বোঝো নি? না কি না বোঝার ভান করেছিলে?

সাদিক: চিঠি পাঁচ

ও সুপর্ণা,

বিয়ে করেছ? করেছ তো? তাই তো তোমার কথা শুনে মাথা নেড়ে বলেছিলাম তোমার মা ভুল কিছু বলেননি, হিন্দু মুসলিম বিয়ে হয় না। যাতে তোমার ঘর হয়। তাই তো বলিনি, তোমার তুতো দাদারা আমাকে রাস্তায় ফেলে শাসিয়েছিল। যাতে তোমার বর হয়। বলিনি, সুপর্ণা। তুমি অনামিকা হয়েই থাক। সুপর্ণা থাক শুধু আমার?

অনামিকা : চিঠি ছয়

সাদিক,

প্রেমের কথা শুনেই তোমার শান্ত চোখ দুটি তে উঠেছিল ঢেউ। মনের ভেতর কি চলছিল তখন তোমার? কোনদিন বলনি। হঠাৎই খবর পেলাম না তোমার। কোথায় চলে গেলে?

সে বছর আমার বিয়ের জন্য প্রস্তাব এল। বাবার বন্ধুর ছেলে। আমাকে তাদের পছন্দ। আমি না করলাম। আমি তো তোমাকেই হৃদয়ে রেখেছিলাম, অন্য কাউকে মেনে নেওয়ার কথা আমি ভাবতেই পারিনি।মাকে তোমার আমার সম্পর্ক নিয়ে বললাম। মা প্রচন্ড রাগ করলেন। বাড়িতে কথাবার্তা বন্ধ। মা এর বক্তব্য একটাই- এ বিয়ে হতে পারে না। তবুও মাকে ছেড়ে থাকতে পারিনি। তোমার মনের খবর জানার চেষ্টাও করেছিলাম। খবর পাই নি।

সেই প্রথম, শুভ বিজয়া বললেই না আমাকে। চলেই গেলে। থাক, অভিমান অভিযোগ নাই করলাম। আজ রাত পোহালে কাল আরেকটা দশমী। তুমি যেখানেই থাক সাদিক, মা দুর্গা তোমাকে ভালো রাখুন।

অনামিকা : চিঠি সাত

কোথায় চলে গেলে তুমি সাদিক? জানো? তোমার দমদমের মেসের ঠিকানায় খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম? তোমার রুমমেটরা কেমন করে তাকিয়ে বলল তুমি আর কখনও কলকাতায় ফিরবে না। আমি অবাক হলাম। খুব অভিমান হয়েছিল। কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বাস করো, জানতামই না আমার মা জেঠুর ছেলেদের পাঠিয়েছিলেন তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য। যখন জানলাম…. টু লেট …

কীসের অভিমান তোমার? কীসের ভয়? জোর করতে শিখলেই না? বুকের ভেতর এত কষ্ট চেপে রাখলে কী করে? সাদিক? একবার ও তো আমার অনুভূতির কথা ভাবতে পারতে? সত্যিই কি জানতে পারবে তুমি কোনদিন? আমিও কি জানাতে পারব তোমায় কখনও?

সাদিক: চিঠি আট

অনামিকা,

পরীখালার এতিমখানাটা বেশ বড় হয়েছে। বাইরে থেকেও মেয়েরা আসে কাজ শিখতে। কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম। পুজোর সময় নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত থাকে না। তার ওপর এই বৃষ্টি, ঘরদোর ভেসে তো গেছেই, খাবার জোটানোই ভার। তারমধ্যে পার্টির লোক এসে হুজ্জুতি, বলে আমরা মেয়ে পাচার করি। পরীখালার কানেকশন ছিল বলে প্রাণে বেঁচে গেছি। যারা রড, তরোয়াল নিয়ে এসেছিল তারা তোমার তুতো দাদার মত দুধভাত নয়। হাতে চোট, কলম ধরতেই পারলাম না, দেখ দশমী এসে গেল। কিন্তু না লিখলে মস্ত গুণাহ হয়ে যায়, তাই ফোনেই লিখছি।

কেমন আছ? অল্প অল্প নুনমরিচের রং ধরেছে চুলে? খোকাখুকু ক'টি? সামনে গিয়ে যদি দাঁড়াই? অবশ্য তোমাকে বিশ্বাস নেই, হয়ত খপ করে আমার হাত ধরে নিজের ছেলেমেয়েদের বলবে এই দেখ আমার পুরোনো আশিক সাদিক, তোদের সাদিকচাচা। তাই তো যাই না। অবশ্য যাব কোথায়? তোমার ঠিকানা গুম করেছি, স্বেচ্ছায়।

অনামিকা? শুভ বিজয়া। মিষ্টি খাওয়াবে না?

অনামিকা: চিঠি নয়

সাদিক,

পুজো আসে, পুজো যায়। প্রতি পুজোর শেষে শুভবিজয়ার চিঠি আর মিষ্টি- এইতো চলে আসছে।আজও তোমার অজানা ঠিকানায় চিঠি লিখে চলেছি।

বয়স বেড়ে চলছে, জানো? মাঝে মাঝেই শরীর বলে পড়ন্তবেলায়, ওরে থাম। চুলের রং জানান দেয়- কিন্তু মন মানে না। সে খালি ওই স্বপ্নালু রঙিন দিন গুলোকেই ফিরে ফিরে দেখতে চায়।

সেই, সেই বছর, মনে আছে , একসাথে ইছামতীর দুর্গা বিসর্জন! দুই দেশের একত্র সমাবেশ।

কিন্তু , তোমাকে আর আমাকে- ধর্মই আলাদা করে দিল, সাদিক। আর এক হতেই দিল না! কে দায়ী? কেন? জানি না। জানতে চাই না। বলতে পারো? এই বিভেদরেখা কেন?

আচ্ছা, আজকাল শুনছি দেশ নাকি ধর্ম এর ভিত্তিতে আলাদা হবে? নাম নথিভুক্ত হচ্ছে?

তুমি কোথায় থাকবে? আর আমি? আমি কোথায় যাব ? সাদিক?

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১ - বিনয় বাদল দীনেশ

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১

    বিনয় বাদল দীনেশ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 23 জানুয়ারী 2022 | সময়কাল: 23 মিনিট 21 সেকেন্ড

    গল্পটা আমাদের মোটামুটি চেনা। ইতিহাস বইয়ে বিনয় বাদল দীনেশের অলিন্দ যুদ্ধের আখ্যান পড়েনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ ব্রিটিশ রাজ যে তাঁদের দেগে দিচ্ছে আর্বান ডাকাত বলে, তা খুব একটা জানা কথা নয়। বিনয় বোস যখন গুলি খেয়ে হাসপাতালে, কমিশনার টেগার্ট সশরীরে গিয়ে বিনয় বোসকে দর্শন দিয়ে এলেন। পরের দিন দেখা গেল বিনয়ের আঙুলের গাঁটগুলো সব ভাঙা।

    অগ্নিযুগে বিপ্লবের জানা-অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি শ্রুতিনাটক টেগার্টের ডায়েরি। চ্যাপ্টার ১ নির্মিত হয়েছে বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স অভিযানের ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 19 ডিসেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 36 মিনিট 9 সেকেন্ড

    দ্রোহকাল একটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী। গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক এই কাহিনী অজাতশত্রুর রাজত্বের প্রথমদিকের ঘটনাবলীর ওপর আধারিত। চারশ নব্বই খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ অজাতশত্রুর বৈশালী আক্রমণের পর থেকে মগধের তৎকালীন রাজধানী রাজগৃহে এই কাহিনীর সূত্রপাত। রবীন্দ্রনাথের পূজারিণী কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ আছে, এমনকি বাণী বসুর মৈত্রেয় জাতকের দ্বিতীয় পর্বেও যার আভাস পাওয়া যায়, সেই শ্রীমতির অর্ঘ্যদানের দ্রোহ সম্বল করে শ্রুতিনাটক- দ্রোহকাল। তিন পর্বে প্রকাশিত।

    এই কাহিনী আমাদের আসিফা ট্রিলজির শেষ কিস্তিও বটে। তিহার থেকে বলছি এবং শুধু তোমার জন্যর পর আমরা শেষবার দেখা পাব আসিফার। 

    নাটকের প্রধান চরিত্রে আছেন অজাতশত্রু, দেবদত্ত, শ্রীমতি, আম্রপালী এবং এক বিদেশী।

    এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • শ্রুতি নাটক - হৃদমাঝারে

    হৃদমাঝারে

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 22 অক্টোবার 2022 | সময়কাল: 17 মিনিট 22 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” একটি বিখ্যাত সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার। এই কালজয়ী গল্প যদি নেমে আসে লকডাউনের বেকারত্ব নিয়ে অবসাদে ভোগা চেনা মানুষের অচেনা হিংস্র আচরণে, যদি একলা থাকা বৃদ্ধাকে সহজে ডাইনী বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কেমন হতে পারত? সেই অনুমানে নির্মিত ভয়ের শ্রুতিনাটক হৃদমাঝারে। নাটকের কিছু সংলাপ রইল এখানে।

  • বিষকন্যা

    বিষকন্যা

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 05 নভেম্বর 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 30 মিনিট 21 সেকেন্ড

    প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির এক অমোঘ দৈব অস্ত্র বিষকন্যা। এক অপরূপা মোহিনী নারী - যে পুরুষ তাঁকে কামনা করে তার সর্বনাশ হয়। সে রাজাই হোক বা অমাত্য। কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই এমন অস্তিত্বের, তবু কল্পকাহিনীতে এই নিয়ে কত গল্প হয়েছে তার লেখাজোখা নেই। যেমন, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের প্রবল জনপ্রিয় ঐতিহাসিক কাহিনী বিষকন্যা। ষোড়শ মহাজনপদের এই কাহিনীর আর একটি চিত্রনাট্যরূপ উপন্যাস তিনি লিখেছেন - “বহু যুগের ওপার হতে”।

    আমাদের এই শ্রুতিনাটক এই দুইটি কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। নাটকের প্রেম প্রতিশোধের ট্র্যাক অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা উল্কাকে সামান্য বেশি অধিকার দেবার চেষ্টা করেছি। রতিক্রীড়ায় পারদর্শিতাকে ছাপিয়ে রাজনীতির সিদ্ধান্তের অধিকার, তাও পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যে, সেসব চাইলে এক বিষকন্যাকে কতটা কী পেতে হয় এইটুকুই আমাদের খোঁজ এই নাটকে। সংলাপের অংশবিশেষ এখানে থাকল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩ - বাঘা যতীন

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩

    বাঘা যতীন

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 21 মিনিট 38 সেকেন্ড

    1915 সালে নয়ই সেপ্টেম্বর যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন পাঁচজন সহযোদ্ধা নিয়ে তিনশো ইংরেজ সৈন্যর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। সেই সৈন্যবাহিনীতে টেগার্ট নিজেও ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের তরফে। টেগার্টের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    নেতাজির উত্থান, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, হিজলী জেল হত্যাকাণ্ড এবং প্যালেস্টাইনের আরব বিদ্রোহ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 3 মিনিট 44 সেকেন্ড

    স্বাধীনতার ইতিহাসটা হয়ত কুখ্যাত টেগার্টের চোখ দিয়ে দেখলে, মাষ্টারদা সূর্য সেন, সুভাষ বোস, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা কি সংগ্রাম করেছেন তার আঁচ পাওয়া যায়। নেতাজির উত্থান এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ থেকে হিজলি জেল হত্যাকান্ড নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘূর্ণিপাকের কেন্দ্রে এই শ্রুতিনাটক।কলকাতার পুলিস কমিশনার টেগার্ট তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ইনিংসের বর্ণনা শেষ করে ইন্ডিয়া থেকে রওনা দেবেন প্যালেস্টাইন। আরব বিদ্রোহীদের সায়েস্তা করার টার্গেট নিয়ে।

  • শ্রুতি নাটক - বিদূষক

    বিদূষক

    এডগার অ্যালান পোয়ের ছোটগল্প হপ-ফ্রগ অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 31 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 26 মিনিট 25 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো “Hop-Frog” নামে একটি ছোটগল্প লিখেছিলেন, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে। Hop-Frog নামের এক বামন ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তি রাজার বিদূষক। তার একমাত্র বন্ধু ছিল ট্রিপেটা নামের এক বামন মেয়ে।রাজা ও তার সাত মন্ত্রী ছিল নিষ্ঠুর ও নৃশংস;  Hop-Frog-কে নিয়মিত অপমান করে, জোর করে মদ খাইয়ে মজা লুটত। এক বিশেষ ভোজসভায় Hop-Frog প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজে পায়।

    হপফ্রগ গল্প হরর, রিভেঞ্জ যত ততটাই মেটাফরিক। রাজা আর তার সাত মন্ত্রীর কাণ্ড দেখে মনে হয়, এরা আদৌ আটটা আলাদা লোক না একই ইউনিট? একটাই রাষ্ট্র, একটাই দফতর, একটাই কুর্সি, সেইরকম না তো? ফ্যাসিজম তো অনেকটা ঐ রাজার মতন, ক্ষমতার মদে দিশেহারা হয়ে যাকে তাকে কামড়ে দেয়। তো কে পারে তার শোধ তুলতে? কী হয় শোধ তোলার পরে? কেমন হয় যদি এই বিন্দুগুলো ঘুরে যায়? পাওয়ার স্ট্রাকচারে যে যেখানে সে সেভাবে তার স্বৈরাচার চালিয়ে যায়, যতক্ষণ তার মেয়াদ। সিংহাসন তার কাজ করে যায়। এইটুকুই?

    এই উত্তরগুলো খুঁজেছি আমরা এই গল্পের অনুপ্রেরণায় লিখিত শ্রুতিনাটক বিদূষকে। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • গঙ্গাহৃদিপদ্মে

    গঙ্গাহৃদিপদ্মে

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 23 এপ্রিল 2023 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 20 মিনিট 31 সেকেন্ড

    "দেবদাসী সুতনুকা রূপদক্ষ দেবদিন্নকে কামনা করিয়াছিল"

    সম্ভবত পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রেমপত্র - ছত্তিসগড়ের যোগমারি গুহায় খোদিত হয়ে আছে আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে। কে সুতনুকা কে দেবদিন্ন, কোথা থেকে এসেছিল তারা, পালিভাষায় সত্যিই কী বলতে চেয়েছিল, ইতিহাস তা জানে না।

    কেমন হয় যদি সুতনুকা আর দেবদিন্নের আদি সাকিন হয় আসলে বাংলাভূমি? কৈবর্ত, শূদ্রদের সে রাজত্ব বলকা দেবী, গঙ্গামায়ের দিব্যি দিয়ে বাইরের শত্তুরদের খেদিয়ে এসেছে এতদিন। তাদের বল্লমের নিশানা দেখে তফাত হয়েছেন আলেকজান্দার স্বয়ং। তাদের সোনার বাংলায় বাণিজ্যে ফসলে সমৃদ্ধিতে জ্বলজ্বল করছে চন্দ্রকেতুগড়। হয়ত এই আলেকজান্ডারের গঙ্গাহৃদি?

    এই সব সারেগামা এসে কোথাও মিলবে আমাদেরই সামনে যোগশিরা গুহায়। সুতনুকা আর দেবদিন্নের ভালোবাসার শেষ অঙ্কে। গঙ্গাহৃদিপদ্মে।