Select your language

কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
Ajeeb Dastaan - বাঈজীদের গল্প
সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 06 মার্চ 2022 | সময়কাল: 26 মিনিট 41 সেকেন্ড
প্রাপ্ত-বয়স্কদের জন্য
গান: তৃণা চক্রবর্তী, অর্পিতা পাল, অয়ন্তিকা দাস মণ্ডল

রিসার্চ: ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

কথক

ড্যাম, এখানেই রাত একটা। ফটাফট লেখাটা শেষ করতে হবে এবারে। উমরাও আকবরের রাজসভায়। তো গজল দেব? মীরার ভজন তো ঝুনঝুনওয়ালার ভাষায় টুউ ভেজ…ডান্স তো রাখতেই হবে, পাবলিক খাবে না তো নইলে,(হাই তুলে) হুম, উমরাওয়ের ছোটবেলার ইনোসেন্সটাও ভালোভাবে ধরা উচিত, কিডন্যাপ হবার আগে একটা ওয়েল টু ডু ফ্যামিলিতে যে সিকিউরিটি অ্যান্ড কমফর্ট পেয়েছে বাচ্চা মেয়েটা সেটা প্রপারলি এক্সপ্রেস হচ্ছে না (হাই তুলে) টেক্সটটাও তো কেমন একটা লাগছে। তবায়েফ হওয়া চাট্টিখানি কথা না, পাঁচ বছর বয়সে গলায় তান ধরাতেই হয়, কিডন্যাপ করে তা কি সম্ভব? উ-ম-রা-ও জা-ন আ-দা, স্পিক টু মি. কথা বল উমরাও জান, কথা বল।

উমরাও

আরে মেহজাবীন, হামকো গুম করনে কি সিতম করে তো করে কিউ? কৌন মার্ড হ্যায় অ্যাইসা যো উমরাও জান আদা সে হারিফ মুকাম্মল করে?

কথক

কে? কে? কে আপনি? একি! এখানে ঢুকলেন কী করে? আরে, আপনারা কারা? কখন এসে আমার ঘরে বসে পড়েছেন?

(হাসির রোল)

উমরাও

হাম তো আপকে যেহেন মি বসতে হ্যায় মেহজাবীন

গঙ্গামণি

এই ছুঁড়ি, বাইজীদের নিয়ে প্যানপ্যানে নাটক লিখছিস দিনরাত আর এখন আমাদের দেখে ভির্মি খাচ্ছিস? ন্যাকা!

কাপ্তেন মোনা

উমরাওকে নিয়ে আকবরের সামনে এক গঙ্গা কাঁদানোর পাপ করছিস তো, আমরা আর পারলাম না, আজকের মজলিশটা তোর ড্রয়িংরুমেই করব ভাবলাম।

আজিজুনবাই

আরে জনাব, গৌর সে দেখিয়ে আপ। উমরাও আর আমি আলাদা কিছু নই। ডরপোক মির্জা বললই না এই তানপুরা বাজানো হাতে পিস্তল নিয়ে আমি কেমন আংরেজ সিপাহীদের খুলি উড়িয়েছি। আপকো অসলি কহানি সুনানে কে লিয়ে হম তশরিফ লায়ে।

কথক

আমি এসব কী দেখছি, কী শুনছি? অ্যাম আই গোয়িং ক্রেজি?

আজিজুনবাই

হর শকস সে আপ তেজ হ্যায় মগর আপমে পাগলপান ভি তো হ্যায়! তাওয়াইফ নিয়ে এত পঢ়ালিখা করে নাকি কেউ? আংরেজদের আউলাদরা তো আমাদের তাওয়াইফ সে রন্ডি বানা দিয়া , ইতনে মে দুনিয়া শুকরগুজার হ্যায় , আপ কিউ খুশ নেহি ?

কাপ্তেন মোনা

দাঁড়াও, বেটি ঘাবড়ে গেছে। তেহলীজ সে পেশ আতে হ্যায়. এই যে ছুঁড়ি, এইটে হল উমরাও। উমরাও জান আদা।

কথক

অ্যাঁ? কে?

কাপ্তেন মোনা

আর এ হল আজিজুনবাঈ। আমরা তো বলি মির্জা মিনসে এর গল্প শুনেই উমরাও জান লিখেছিল।

কথক

আ-আজিজুনবাঈ?

কাপ্তেন মোনা

হুঁ, মা সরস্বতী আছেন ওর গলায়। নবাব থেকে ইংরেজ সিপাই, আজিজুনবাঈয়ের একখানা গান শোনার জন্য পায়ের তলায় পড়ে থাকত। তারপর মিউটিনির সময় তানপুরা ফেলে ধরল পিস্তল। সিপাহী সেজে বরাবর ঢুকে যেত ঘোড়ায় চেপে। ও ছিল, যাকে বলে ক্র্যাকশট। বাঘা বাঘা লালমুখো বাদামীমুখো অফিসার ওর নাম শুনে ভয়ে পেচ্ছাপ করে ফেলত। হা হা হা হা। যাই হোক, এটা হল গঙ্গামণি।

গঙ্গামণি

গঙ্গাবাঈ বল গো। গিরীশ ঘোষ দেগে দিয়েছিল, বাইজি বলে। অ্যাকটো তো বিনোদিনীও করত, সে হল নটী। আমার কাছে গান শিখে সে হল নটী। আর আমি হলুম বাঈজী। গঙ্গাবাঈ। বুঝলি? কী বুঝলি?

কথক

বিনো - ন-নটী বিনোদিনীর গানের টীচার আপনি?

উমরাও

আর ঐ যে, আমাদের পালি। চুপটি করে বসে আছে দেখ, আমাদের মত dillagi করছে না। ও হল আম্রপালী।

কথক

কে?

আম্রপালী

আম্রপালী। আমি। সন্দেহ আছে?

কথক

ন-ন্না মানে-

কাপ্তেন মোনা

ও তোদের সিনেমা সিরিয়ালের লবঙ্গলতিকা আম্রপালী না, অজাতশত্রুকে ঘোল খাইয়ে বুদ্ধের শরণ নেওয়া আম্রপালী। আড়াই হাজার বছর আগে বৈশালীতে নগরনটীদের বোর্ডিং স্কুল খোলা আম্রপালী। মগধের ইতিহাস পালটে দেওয়া আম্রপালী।

কথক

নাহ, আর অবাক হব না। যদি পাগল হয়ে গিয়েই থাকি, আর তো কিছু করার নেই, লেট মি এনজয় দ্য শো। মন্দ লাগছে না।

আর আপনি? কৈ, আপনার নাম বললেন না?

কাপ্তেন মোনা

আমি? ও গঙ্গা কবুতর, বলে দাও, আমি কে। বকে বকে গলা শুকিয়ে গেছে, একটা একশোর সিগারেট লাগবে।

গঙ্গামণি

একশো টাকার নোট দিয়ে সিগারেট পাকিয়েছিস? ছুঁড়িকে কাপ্তেন বলে কি আর সাধে ডাকত? অ খুকি, উনি হলেন মনোরমা। অর্ধেন্দুশেখরের হাতে গড়া নটী গো। যেমন থিয়েটার করত, তেমনি মুজরো। কম হীরে জহরত কামিয়েছে ছুঁড়ি? দু হাতে রোজগার করেছে, আর দশ হাতে খয়রাতি। তাই ও হল কাপ্তেন মোনা। বুঝলি? কী বুঝলি?

আম্রপালী

মোনা একটা বিস্ময় আমার কাছে। শিশুবয়স থেকে নাড়া বেঁধে সঙ্গীতশাস্ত্র না শিখলে সরস্বতীর আশীর্বাদে অধিকার জন্মায় না। অথচ ওকে দেখ। যেন রাগ মধুবন্তী। এই নাটক ভালো লাগছে তো ঐ চলল সঙ্গীতগুরুর সন্ধানে। গলায় মধ্য-সপ্তকের ষড়জে শম্ বাঁধা। আহা, এমন একটা ছাত্রী পেতাম যদি! নতুন গায়কী তৈরি করে ফেলতাম

কাপ্তেন মোনা

তোমার ছাত্রী হলে তোমার স্কুলের সবচেয়ে ডবকা ছাত্রীকে নিয়ে ইলোপ করতাম। গায়কীতে তীব্র মা ছাড়া আর কিছু পড়ে থাকত না। তা তোমাদের সময়ে মেয়েদের প্রেম করলে মোড়ল জ্যাঠারা গোবর ছুঁড়তেন?

আম্রপালী

প্রেম না থাকলে, শৃঙ্গার না থাকলে গায়কীর বোধ আসবে কেমন করে? সমলিঙ্গের প্রেম নিয়ে আলাদা করে কেউ মাথা ঘামাতেন না, নগরপালিকার শৃঙ্খলায় তো একেবারেই নয়।

উমরাও

ইশক পর জোর নাহি হ্যায় উওহ আতিশ , গালিব। কিন্তু সে দিওয়ানিরা শাদি করতে চাইলে?

আম্রপালী

বিবাহ মানেই বংশরক্ষা। সম্পত্তির উত্তরাধিকার। তাছাড়া নগরপালিকা বিবাহ করতে চাইলে সর্বাগ্রে রাজকোষে ঘড়া ঘড়া কার্ষাপণ আবশ্যক, ঐ তোমাদের একশোর নোটে তো কুলিয়েই উঠত না।

উমরাও

আউর আপপে যো দো দো রাজাও নে দিল লুটায়া উসকা ক্যয়া?

আম্রপালী

রাজার আইন প্রজাদের জন্য। রাজাদের জন্য তো নয়! তাঁরা ইচ্ছা হলে রাণী করেন, ইচ্ছা হলে শূলে দেন। অজাতশত্রুকে বিবাহ করব না বলে গণহত্যার কারণ হয়েছিলাম। বিতৃষ্ণায় বুদ্ধের শরণে এসেছি বলে বৌদ্ধ শ্রমণ শ্রমণাদের অবাধে হত্যা করেছিলেন রাজা। কোনো নিয়মে আটকায়নি।

নবাবজাদাও তো তোমার প্রেমে পড়েছিলেন, তোমার তো হারেম পোষালো না।

উমরাও

নাহ। এত গুস্তাখি একের পর এক হয়ে গেল। কায়র নবাবজাদা বাগাওয়াত করলই না। আমার ফৈজ আলি বেঁচে থাক, আংরেজদের নাকে ঝামা ঘষতে না পারলে মর্দ কিসের?

আজিজুনবাঈ

উমরাও, মিউটিনির সময় আংরেজদের নাকে মর্দরা ঝামা ঘষতে পারে, তবে জেনানারা তাদের নাক কেটে নিয়েছিল। মিউটিনির পরে আংরেজ সরকার এর শোধ তুলেছিল বটে। আমাদের tawaif দের তেহলীজ, কায়দা কানুন সব লুটে নিয়ে গেল ফিরাংগিগুলো। আর কি ঘেন্নার কথা, বলে আমরা, তাওয়াইফরা নাকি বিমারি এনেছি মিলিটারিতে।

গঙ্গামণি

হ্যাঁ, পুলিশ এসে বড় ঝামেলা করত বাপু। সবে একটা শক্ত আলাপ নিয়ে বসেছি, অল্প অল্প করে বশে আনছি, ও মা, একদঙ্গল লালমুখো ব্যাটাছেলে এসে হাজির। সব ঘেঁটেঘুঁটে দেখে হয় না, আবার শুতে চায়। আঁশবঁটি নিয়ে তাড়া করেছিলুম সেবার

কাপ্তেন মোনা

ওদের চোখে বাইজী হল বেশ্যা। সে তো আর আর্টিস্ট নয়, রাণী ভিক্টোরিয়ার জমানায় মেয়েছেলে শোয়ার ঘরের চৌকাঠ পেরিয়েছে কি সে বারভোগ্যা।

আজিজুনবাঈ

আসলি কহানি মিউটিনির পরে লখনউতে শুরু। নবাব তখতে নেই। ট্যাক্স দেনেওয়ালা বচা কৌন? এক সে বঢ়কর এক তাওয়াইফ, আউর কৌন? আংরেজদের দিমাগ ঘুরে গেল। জেনানার হাতে এত্তো পয়সা?

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

তথ্যসূত্র

বই

  1. Veena Talwar Oldenburg. The Making of Colonial Lucknow, 1856-1877. Princeton Legacy Library
  2. শিবব্রত চট্টোপাধ্যায়. বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহাস : ১৭৯৫-১৮২০
  3. অমিত মৈত্র. রঙ্গালয়ে বঙ্গনটী
  4. বাংলা থিয়েটারের গান. দেবজিত বন্দ্যোপাধ্যায় (সম্পাদনা)
  5. কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়. মজলিস

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 13 মার্চ 2022 | সময়কাল: 34 মিনিট 32 সেকেন্ড

    মাধবী পাহাড় ডিঙিয়ে বেড়ায়। পূজা অ্যাম্বুলেন্স চালায়। রেশমী স্টান্টলেডি ছিল, এখন চোট পেয়ে বসে গিয়ে ক্লাউড কিচেন চালায়। মনোদিদি সমাজের ভ্যালিডেশনের উল্টোদিকে থাকে, লোকে যাকে বলে পাগল। মনোদিদি মন ভালো করতে কবিতা পড়ে। মালতী বেকার মানুষ, মাধবীর জন্য সমাজ-বিরুদ্ধ সমপ্রেম নিয়ে বসে থাকে। শ্যামলী গিগ কর্মী, অ্যাসিড এটাক ভিক্টিম থেকে সার্ভাইভার হবার লড়াই করে যায়। শতভিষা এয়ারফোর্সে আছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফেরাতে গিয়ে কোনো এক মাধবীর সন্ধান পায় সে। এই মেয়েদের বসন্ত যাপনের গল্প যা কিনা শ্রেণিভেদে সমান্তরাল হবার কথা ছিলো তা মিলে যায় কোনও অপ্রত্যাশিত প্রতিচ্ছেদে। এই নিয়ে গীতি-কবিতা আলেখ্য মধুর বসন্ত, সেই সমস্ত মেয়েদের জন্য, যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া। কথনের কিছু অংশ রইল এখানে।

  • শ্রুতি নাটক - মেঘমল্লার

    মেঘমল্লার

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 18 জুন 2022 | সময়কাল: 36 মিনিট 46 সেকেন্ড

    মেঘমল্লার বিভূতিভূষণের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত এই ছোটগল্প সংকলনের একটি গল্প মেঘমল্লার।

    এই গল্পটি যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে আমরা এর নাট্যরূপ দিয়েছি। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ২ - ননীবালা দেবী

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ২

    ননীবালা দেবী

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 10 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 16 মিনিট 9 সেকেন্ড

    আমাদের এই চ্যাপ্টারে আছেন এক ব্ল্যাক উইডো। তিনি হলেন ননীবালা দেবী। ননীবালা দেবী। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী। অফিসিয়ালি প্রথম থার্ড ডিগ্রী খাওয়া মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাটা ঢোকানোর পরেও মুখ না খোলা ননীবালা দেবী।

    টেগার্টের ডায়রীর দ্বিতীয় পর্ব, নির্মিত হয়েছে বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবীর ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • শরতের খোলা খাম ব্যানার

    শরতের খোলা খাম

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: তৃণা চক্রবর্তী, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 10 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 59 মিনিট 32 সেকেন্ড

    সাদিক হোসেন, সাকিন মুর্শিদাবাদ

    অনামিকা মিত্র, সাকিন উত্তর কলকাতা

    রাজযোটক যে নয় সাদিক-অনামিকা তা জানতে কোষ্ঠীবিচার লাগবে না। দুর্গ্রহলগ্নে ওদের জন্ম। তাই তো নেট পরীক্ষা দিতে গিয়ে পাশাপাশি সিট পড়ে। সময় বুঝে কালি খতম হয়ে যায় সাদিকের। ঝট করে পেন বাড়িয়ে দেয় পাশ থেকে অচেনা অনামিকা। ডটপেনের মূল্যবাবদ পরীক্ষার পরের চা আর প্রজাপতি বিস্কুটটা অফার করে সাদিক। তারপর? অনামিকার গালে টোল পড়ে, সাদিকের গিটারে বোল ধরে, কাশফুলে লাগে দোল। যা হবার তাই হয়। অথচ তখন সদ্য নয়ের দশক। বাবরি মসজিদ অক্ষত। ভাবা যায়?

    সাদিক অনামিকার প্রেমটা বেশিদিন টেকেনি। কিন্তু টেঁকসই প্রেম ঠিক কেমন? এই যে প্রতি পুজোয় এরা এখনও একজন আরেকজনকে মনে করে চিঠি লেখে, লিখে সে চিঠি রেখে দেয় যার যার ডায়রিতে, এটা প্রেম, না অন্য কিছু? এই চিঠি আর কিছু গান কবিতা নিয়ে শ্রুতিনাটক শরতের খোলা খাম। কিছু চিঠি থাকল এখানে আপনাদের জন্য।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    নেতাজির উত্থান, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, হিজলী জেল হত্যাকাণ্ড এবং প্যালেস্টাইনের আরব বিদ্রোহ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 3 মিনিট 44 সেকেন্ড

    স্বাধীনতার ইতিহাসটা হয়ত কুখ্যাত টেগার্টের চোখ দিয়ে দেখলে, মাষ্টারদা সূর্য সেন, সুভাষ বোস, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা কি সংগ্রাম করেছেন তার আঁচ পাওয়া যায়। নেতাজির উত্থান এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ থেকে হিজলি জেল হত্যাকান্ড নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘূর্ণিপাকের কেন্দ্রে এই শ্রুতিনাটক।কলকাতার পুলিস কমিশনার টেগার্ট তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ইনিংসের বর্ণনা শেষ করে ইন্ডিয়া থেকে রওনা দেবেন প্যালেস্টাইন। আরব বিদ্রোহীদের সায়েস্তা করার টার্গেট নিয়ে।

  • শ্রুতি নাটক - বিদূষক

    বিদূষক

    এডগার অ্যালান পোয়ের ছোটগল্প হপ-ফ্রগ অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 31 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 26 মিনিট 25 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো “Hop-Frog” নামে একটি ছোটগল্প লিখেছিলেন, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে। Hop-Frog নামের এক বামন ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তি রাজার বিদূষক। তার একমাত্র বন্ধু ছিল ট্রিপেটা নামের এক বামন মেয়ে।রাজা ও তার সাত মন্ত্রী ছিল নিষ্ঠুর ও নৃশংস;  Hop-Frog-কে নিয়মিত অপমান করে, জোর করে মদ খাইয়ে মজা লুটত। এক বিশেষ ভোজসভায় Hop-Frog প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজে পায়।

    হপফ্রগ গল্প হরর, রিভেঞ্জ যত ততটাই মেটাফরিক। রাজা আর তার সাত মন্ত্রীর কাণ্ড দেখে মনে হয়, এরা আদৌ আটটা আলাদা লোক না একই ইউনিট? একটাই রাষ্ট্র, একটাই দফতর, একটাই কুর্সি, সেইরকম না তো? ফ্যাসিজম তো অনেকটা ঐ রাজার মতন, ক্ষমতার মদে দিশেহারা হয়ে যাকে তাকে কামড়ে দেয়। তো কে পারে তার শোধ তুলতে? কী হয় শোধ তোলার পরে? কেমন হয় যদি এই বিন্দুগুলো ঘুরে যায়? পাওয়ার স্ট্রাকচারে যে যেখানে সে সেভাবে তার স্বৈরাচার চালিয়ে যায়, যতক্ষণ তার মেয়াদ। সিংহাসন তার কাজ করে যায়। এইটুকুই?

    এই উত্তরগুলো খুঁজেছি আমরা এই গল্পের অনুপ্রেরণায় লিখিত শ্রুতিনাটক বিদূষকে। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • শ্রুতি নাটক - হৃদমাঝারে

    হৃদমাঝারে

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 22 অক্টোবার 2022 | সময়কাল: 17 মিনিট 22 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” একটি বিখ্যাত সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার। এই কালজয়ী গল্প যদি নেমে আসে লকডাউনের বেকারত্ব নিয়ে অবসাদে ভোগা চেনা মানুষের অচেনা হিংস্র আচরণে, যদি একলা থাকা বৃদ্ধাকে সহজে ডাইনী বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কেমন হতে পারত? সেই অনুমানে নির্মিত ভয়ের শ্রুতিনাটক হৃদমাঝারে। নাটকের কিছু সংলাপ রইল এখানে।

  • বর্ষামঙ্গল - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    বর্ষামঙ্গল - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 01 আগস্ট 2021 | সময়কাল: 44 মিনিট

    ভরা বর্ষায় আঁচল পেতে বসে থাকে বঙ্গজননী। নদীনালার কূল ছাপিয়ে বন্যা হবে। কিছু রোয়া ধান ভেসে যাবে। কুঁড়ে গোয়াল ছেড়ে একটা ছাগল কি দুটো মুর্গি সম্বল করে হেঁটে যাবে চাষাভুষোর দল। সম্বচ্ছর উদ্বাস্তু হতে হয় তাদের। গ্রামের নেড়িগুলো অবাক চোখে দেখবে একরত্তি ভেলাগুলোতে তাদের ঠাঁই নেই। পরে, রোগব্যাধি ক্ষয়ক্ষতির ষোলকলা পূর্ণ করে, জল সরবে, রেখে যাবে প্লাবনভূমির উত্তরাধিকার।

    ভরা বর্ষায় জল বাড়ে তাড়াতাড়ি। নদীতে, রাস্তায়, খাদানে কুলি কামিনরা কাজ বন্ধ করবে, কখনও তার আগেই ঘটে যাবে দুর্ঘটনা। ডুবে নিখোঁজ হয়ে যেতে যেতে মজুরদের মনে পড়বে না কতপুরুষ আগে, বিদেশী রাজাদের শিল্পবিপ্লব হওয়ার আগে, তাদের হাতে লাঙল ছিল, জল সরলে তারা সোনা ফলাত। কোনও এক গাঁয়ের বধূর গোলাভরা ধান ছিলো, উঠোনে আলপনা ছিলো। সে থাক। অপঘাত মানুষকে জাতিস্মর করবে এমন কোনো কথা নেই।

    বর্ষামঙ্গল - আমাদের শেকড়ের কথা। গানে কবিতায় ছবি আঁকি।