কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
শ্রুতি নাটক - বিদূষক
এডগার অ্যালান পোয়ের ছোটগল্প হপ-ফ্রগ অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 31 অক্টোবার 2021 | সময়কাল: 26 মিনিট 25 সেকেন্ড
চরিত্রলিপি:
  • ব্যাঙ / সোনা | সোমা দে
  • তিরি / ত্রির্ণা | অয়ন্তিকা দাস মণ্ডল
  • রাজা | পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
গান: তৃণা চক্রবর্তী

ভূমিকা

এডগার অ্যালান পো “Hop-Frog” নামে একটি ছোটগল্প লিখেছিলেন, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে। Hop-Frog নামের এক বামন ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তি রাজার বিদূষক। তার একমাত্র বন্ধু ছিল ট্রিপেটা নামের এক বামন মেয়ে।রাজা ও তার সাত মন্ত্রী ছিল নিষ্ঠুর ও নৃশংস;  Hop-Frog-কে নিয়মিত অপমান করে, জোর করে মদ খাইয়ে মজা লুটত। এক বিশেষ ভোজসভায় Hop-Frog প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজে পায়।

হপফ্রগ গল্প হরর, রিভেঞ্জ যত ততটাই মেটাফরিক। রাজা আর তার সাত মন্ত্রীর কাণ্ড দেখে মনে হয়, এরা আদৌ আটটা আলাদা লোক না একই ইউনিট? একটাই রাষ্ট্র, একটাই দফতর, একটাই কুর্সি, সেইরকম না তো? ফ্যাসিজম তো অনেকটা ঐ রাজার মতন, ক্ষমতার মদে দিশেহারা হয়ে যাকে তাকে কামড়ে দেয়। তো কে পারে তার শোধ তুলতে? কী হয় শোধ তোলার পরে? কেমন হয় যদি এই বিন্দুগুলো ঘুরে যায়? পাওয়ার স্ট্রাকচারে যে যেখানে সে সেভাবে তার স্বৈরাচার চালিয়ে যায়, যতক্ষণ তার মেয়াদ। সিংহাসন তার কাজ করে যায়। এইটুকুই?

এই উত্তরগুলো খুঁজেছি আমরা এই গল্পের অনুপ্রেরণায় লিখিত শ্রুতিনাটক বিদূষকে। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

রাজা - কৈ, আমার মদের গেলাস খালি কেন? ভর্তি কর, ভর্তি কর। তা ব্যাঙ, আজ ভাঁড়ে নতুন কী ভাঁড়ামো এনেচ বাবা? ওহে মন্ত্রী, আজ ব্যাঙকে দেখে তোমাদের হাসি পাচ্ছে না?

হ্যাঁ মহারাজ

হ্যাঁ মহারাজ

খুব হাসি পাচ্ছে মহারাজ

হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাচ্ছে মহারাজ

হা হা হা, ঐ তো কুলোর মত পেট, ধামার মত বুক। লিকলিকে পাছার তলায় আর কিচ্ছু নেই। হা হা হা।

হা হা হা হা

ও হে ব্যাঙ?

ব্যাঙ - আজ্ঞে মহারাজ?

রাজা - তুমি যখন মায়ের পেট থেকে বেরিয়েছিলে, মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে বাচ্চারা কাঁদে ঠিক কি না?

ঠিক ঠিক ঠিক

তা, তুমি যখন মায়ের পেট থেকে বেরোলে, তুমি কী করলে ব্যাঙ?

ব্যাঙ - আমি উউউ (শেয়ালের ডাক) করে খানিকটা কেঁদে নিয়েই একটা পোকা দেখতে পেলুম।

রাজা - হা হা হা, ব্যাঙের চোখ। তারপর?

তারপর? তারপর? তারপর?

ব্যাঙ - তারপরে, আমি খপ করে পোকাটা খেয়ে ফেলে, একটা ঢক করে ঢেকুর তুলে গ্যাঙর গ্যাঙ করলুম রাজামশাই।

রাজা - হা হা হা, ঐ, ঐ, দেওয়ালে একটা মাছি বসে আছে, ব্যাঙ?

ব্যাঙ - গ্যাঙর গ্যাঙ। মাছি মাছি। ওটাকে খেতে (জিভ দিয়ে নাল টানার শব্দ করে); মহারাজ, দেওয়াল বাইতে হবে।

রাজা - দেওয়াল? দেওয়াল কারা বায় ব্যাঙ?

ব্যাঙ - বাঁদরে দেওয়াল বায় মহারাজ

রাজা - বাঁদর হও ব্যাঙ

ব্যাঙ - হুপ হুপ হুপ। উউউউ (বাঁদরের গলার আওয়াজ করে) মাছি, মাছি, খাই চাঁছিপুঁছি

রাজা - এই তো, সাবাস, হা হা হা, ব্যাঙ মাছি খাচ্ছে।

হা হা হা

হা হা হা

হা হা হা

ব্যাঙ - ব্যাঙ তারপরে বাঁদরের মত কলাগাছে চড়ে

রাজা - কলাগাছে চড়ে কী? ব্যাঙ?

কী, কী, কী?

ব্যাঙ - দোল খেতে - খেতে, দোল খেতে-খেতে

রাজা - হা হা হা, সাবাশ (হাততালি)

ব্যাঙ - দোল খেতে-খেতে ব্যাঙ দেখল তার ত্রিভুবনে কেউ নেই, সব মরে হেজে গেছে। কোথাও যাবার নেই, কোনো কাজে সে লাগে না। বেকার ব্যাঙ, অকর্মণ্য ব্যাঙ।

রাজা - অকম্মা ব্যাঙ। হা হা, তারপর?

ব্যাঙ - তারপরে ব্যাঙ শুনতে পেল মহারাজ ডাকছেন, আয় -আয়-আয়-আয়

রাজা -

আ আ আ চু চু চু

আ আ আ

চু চু চু

ব্যাঙ - ব্যাঙ শুনতে পেল মহারাজ বলছেন আমায় কে হাসাতে পারে? আমায় কে হাসাতে পারে?

রাজা - কে কে কে?

কে পারে? কে পারে?

ব্যাঙ - ব্যাঙ দোলে-দোলে আর ভাবে-ভাবে। এমন সময় এল মস্ত ঝড়। হাওয়ার দাপটে গোরু ওড়ে, বাঘ ওড়ে, উড়তে উড়তে গোরুটা বাঘকে, না না, বাঘটা গোরুকে চিবিয়ে খেল।

রাজা - হা হা হা, গোরুতেই বাঘ খাক। হা হা হা

ব্যাঙ - গোরুতেই বাঘ খেল। ব্যাঙ কোনোমতে লুকিয়ে চুরিয়ে উড়তে উড়তে এসে পড়ল মহারাজের আসরে।

রাজা - ব্যাঙ?

ব্যাঙ - মহারাজ?

রাজা - গোরুটা তোমার পেছনে নেই তো?

ব্যাঙ - আজ্ঞে না মহারাজ। সেই গরুটা আমি খেয়ে ফেলেছি। সেই থেকে আমার ধামার মত পেট।

রাজা - হা হা হা হা। কেয়াবাৎ ব্যাঙ।

কেয়াবাৎ কেয়াবাৎ

ব্যাঙ হল দুনিয়ার সেরা ভাঁড়। ঢুঁড়ে দেখাক কেউ এমন ভাঁড় আর একটা? বলুক আমার মন্ত্রীরা? পাবে এমন ভাঁড় কেউ?

না না না, কোথাও পাবে না

ব্যাঙ আমাদের সেরা ভাঁড়

এ কি, আমার গেলাস খালি? মদ দাও গেলাসে। তিরি? ফাঁকি দিচ্ছিস আজকাল কাজে?

তিরি - এই যে, মহারাজ। ভরে দিচ্ছি

রাজা - হা হা হা, সত্যি বল তিরি, তুই ও তো বেঁটে বাঁটকুল, তোরও ব্যাঙকে দেখে হাসি পায়?

নাকি, তুই ব্যাঙকে দেখছিলি? আমায় মদ দিতে ভুলে গেলি।

ব্যাঙ - আমাকে দেখে আর হাসি না পেলে আমার কী হবে মহারাজ? ব্যাঙ ভাঁড় ভুঁড়ি শুকিয়ে মরবে

রাজা - হা হা হা, ভুঁড়ি শুকিয়ে মরবে। হো হো হো

তিরি - হি হি হি, ওকে দেখলেই কেমন হাসি পায়। আমি বেঁটে হলেও সুন্দরী। তাই তো মহারাজ আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন।

ব্যাঙ - আর আমি বামনকুলের কুলমার্তণ্ড। পেটের মধ্যে একঝুড়ি কুল নিয়ে বসে আছি।

তিরি - হি হি হি

রাজা - হা হা হা। মন্ত্রী? কোন রাজ্যের সেনা ভালো, কোন দেশের মেয়েছেলে ভালো। আমার দেশে কোনটা ভালো?

আপনার ভাঁড় দুনিয়ার সেরা ভাঁড় মহারাজ!

হা হা হা। সেরা ভাঁড়। এই যে ব্যাঙ, এসো এক পাত্তর মদ চড়াও দেখি?

ব্যাঙ - আজ্ঞে মহারাজ, মদ খেলে আমার কষ্ট হয় মাথা ঘোরে

রাজা - হা হা হা, মাথা ঘোরে। আর কী হয়? ব্যাঙ?

ব্যাঙ - বমি হয় মহারাজ

রাজা - হা হা হা, শুনলে, বমি হয় ব্যাঙের। তা, তুমি ক'মাস পোয়াতি হে ব্যাঙ?

কমাস? ক'মাস? ক'মাস?

ব্যাঙ - আজ্ঞে না মহারাজ, পোয়াতি নই। এই যে, (গেলাস থেকে মদ খেয়ে), খেলুম।

রাজা - হা হা হা। নও? তা হলে আরোও মদ খাও। উঁহু, গেলাস আমাদের জন্য।এবারে ঐ জালাটা তোলো, জাম্বুবানের মত শক্তি তো, তোলো তোলো, অ্যা, এবারে খাও। ঢকঢক করে। খালি না করে নামালে মুণ্ডু থাকবে না হে ভাঁড়। তখন? তখন? মরা ব্যাঙ? লাখ টাকা। হা হা হা।

লাখ টাকা, লাখ টাকা, লাখ টাকা

ব্যাঙ - যে আজ্ঞে মহারাজ

তিরি - মহারাজ? ব্যাঙের শরীরটা ভালো নেই, এক কলসী মদ খেলে ও আর বাঁচবে না হুজুর

রাজা - বটে? তুই আমার থেকে বেশি জানিস?

তিরি- না মহারাজ, সত্যি ওর শরীর ভালো নেই। সকালেও জ্বর ছিল গায়ে, আমি নিজে দেখেছি।

রাজা - উউউউউউ, কত দরদ রে, আমার ভাঁড়ের গা কত গরম গিয়ে দেখে এসেছিস? কেন রে, ওকে বে করবি নাকি? পাছার তলায় কিসু নাই, তাকে বে করবি?

তিরি - ( কেঁদে ফেলে) না মহারাজ। আমি কিচ্ছু করব না। দোহাই, ওকে কলসীটা নামাতে বলুন। আর মদ খেলে ও মরে - মা গো

রাজা - ভাঁড়ের ব্যথায় একেবারে বুক টনটন করছে হ্যাঁ? বাঁটকুলি বামন এই নে, তুইও মদ গেল

তিরি - আ আ লাগছে আহ।

রাজা - হে হে, লাগলে হবে? ঘাড়টা এমনি করে কাত করে মদ গিলতে হয়, ঢলানি ছেনাল, বুঝলি?

তিরি - দমফাটা কাশির আওয়াজ

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১ - বিনয় বাদল দীনেশ

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১

    বিনয় বাদল দীনেশ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 23 জানুয়ারী 2022 | সময়কাল: 23 মিনিট 21 সেকেন্ড

    গল্পটা আমাদের মোটামুটি চেনা। ইতিহাস বইয়ে বিনয় বাদল দীনেশের অলিন্দ যুদ্ধের আখ্যান পড়েনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ ব্রিটিশ রাজ যে তাঁদের দেগে দিচ্ছে আর্বান ডাকাত বলে, তা খুব একটা জানা কথা নয়। বিনয় বোস যখন গুলি খেয়ে হাসপাতালে, কমিশনার টেগার্ট সশরীরে গিয়ে বিনয় বোসকে দর্শন দিয়ে এলেন। পরের দিন দেখা গেল বিনয়ের আঙুলের গাঁটগুলো সব ভাঙা।

    অগ্নিযুগে বিপ্লবের জানা-অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি শ্রুতিনাটক টেগার্টের ডায়েরি। চ্যাপ্টার ১ নির্মিত হয়েছে বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স অভিযানের ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    নেতাজির উত্থান, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, হিজলী জেল হত্যাকাণ্ড এবং প্যালেস্টাইনের আরব বিদ্রোহ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 3 মিনিট 44 সেকেন্ড

    স্বাধীনতার ইতিহাসটা হয়ত কুখ্যাত টেগার্টের চোখ দিয়ে দেখলে, মাষ্টারদা সূর্য সেন, সুভাষ বোস, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা কি সংগ্রাম করেছেন তার আঁচ পাওয়া যায়। নেতাজির উত্থান এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ থেকে হিজলি জেল হত্যাকান্ড নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘূর্ণিপাকের কেন্দ্রে এই শ্রুতিনাটক।কলকাতার পুলিস কমিশনার টেগার্ট তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ইনিংসের বর্ণনা শেষ করে ইন্ডিয়া থেকে রওনা দেবেন প্যালেস্টাইন। আরব বিদ্রোহীদের সায়েস্তা করার টার্গেট নিয়ে।

  • বর্ষামঙ্গল - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    বর্ষামঙ্গল - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 01 আগস্ট 2021 | সময়কাল: 44 মিনিট

    ভরা বর্ষায় আঁচল পেতে বসে থাকে বঙ্গজননী। নদীনালার কূল ছাপিয়ে বন্যা হবে। কিছু রোয়া ধান ভেসে যাবে। কুঁড়ে গোয়াল ছেড়ে একটা ছাগল কি দুটো মুর্গি সম্বল করে হেঁটে যাবে চাষাভুষোর দল। সম্বচ্ছর উদ্বাস্তু হতে হয় তাদের। গ্রামের নেড়িগুলো অবাক চোখে দেখবে একরত্তি ভেলাগুলোতে তাদের ঠাঁই নেই। পরে, রোগব্যাধি ক্ষয়ক্ষতির ষোলকলা পূর্ণ করে, জল সরবে, রেখে যাবে প্লাবনভূমির উত্তরাধিকার।

    ভরা বর্ষায় জল বাড়ে তাড়াতাড়ি। নদীতে, রাস্তায়, খাদানে কুলি কামিনরা কাজ বন্ধ করবে, কখনও তার আগেই ঘটে যাবে দুর্ঘটনা। ডুবে নিখোঁজ হয়ে যেতে যেতে মজুরদের মনে পড়বে না কতপুরুষ আগে, বিদেশী রাজাদের শিল্পবিপ্লব হওয়ার আগে, তাদের হাতে লাঙল ছিল, জল সরলে তারা সোনা ফলাত। কোনও এক গাঁয়ের বধূর গোলাভরা ধান ছিলো, উঠোনে আলপনা ছিলো। সে থাক। অপঘাত মানুষকে জাতিস্মর করবে এমন কোনো কথা নেই।

    বর্ষামঙ্গল - আমাদের শেকড়ের কথা। গানে কবিতায় ছবি আঁকি।

  • তিহার থেকে বলছি

    তিহার থেকে বলছি

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 08 মে 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 27 মিনিট 25 সেকেন্ড

    শ্রুতিনাটক তিহার থেকে বলছি রবিপ্রেমের ফসল। রবীন্দ্রনাথের তিনটি উপন্যাস শেষের কবিতা, ঘরে বাইরে এবং চতুরঙ্গের কিছু অংশ এক কাল্পনিক চরিত্র আসিফার দৃষ্টিতে পাঠ করব আমরা। আসিফা এক রাজবন্দী। লাবণ্য, বিমলা, দামিনীর অন্বেষণে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত মিশে যায়।

    রাজবন্দী আসিফার মোট তিনটি উপাখ্যান আছে, তিহার থেকে বলছি তার প্রথম কিস্তি। নাটকের মৌলিক অংশটি রইল।

  • বিষকন্যা

    বিষকন্যা

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 05 নভেম্বর 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 30 মিনিট 21 সেকেন্ড

    প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির এক অমোঘ দৈব অস্ত্র বিষকন্যা। এক অপরূপা মোহিনী নারী - যে পুরুষ তাঁকে কামনা করে তার সর্বনাশ হয়। সে রাজাই হোক বা অমাত্য। কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই এমন অস্তিত্বের, তবু কল্পকাহিনীতে এই নিয়ে কত গল্প হয়েছে তার লেখাজোখা নেই। যেমন, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের প্রবল জনপ্রিয় ঐতিহাসিক কাহিনী বিষকন্যা। ষোড়শ মহাজনপদের এই কাহিনীর আর একটি চিত্রনাট্যরূপ উপন্যাস তিনি লিখেছেন - “বহু যুগের ওপার হতে”।

    আমাদের এই শ্রুতিনাটক এই দুইটি কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। নাটকের প্রেম প্রতিশোধের ট্র্যাক অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা উল্কাকে সামান্য বেশি অধিকার দেবার চেষ্টা করেছি। রতিক্রীড়ায় পারদর্শিতাকে ছাপিয়ে রাজনীতির সিদ্ধান্তের অধিকার, তাও পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যে, সেসব চাইলে এক বিষকন্যাকে কতটা কী পেতে হয় এইটুকুই আমাদের খোঁজ এই নাটকে। সংলাপের অংশবিশেষ এখানে থাকল।

  • মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    মধুর বসন্ত - গীতি-কবিতা আলেখ্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | রচনা: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 13 মার্চ 2022 | সময়কাল: 34 মিনিট 32 সেকেন্ড

    মাধবী পাহাড় ডিঙিয়ে বেড়ায়। পূজা অ্যাম্বুলেন্স চালায়। রেশমী স্টান্টলেডি ছিল, এখন চোট পেয়ে বসে গিয়ে ক্লাউড কিচেন চালায়। মনোদিদি সমাজের ভ্যালিডেশনের উল্টোদিকে থাকে, লোকে যাকে বলে পাগল। মনোদিদি মন ভালো করতে কবিতা পড়ে। মালতী বেকার মানুষ, মাধবীর জন্য সমাজ-বিরুদ্ধ সমপ্রেম নিয়ে বসে থাকে। শ্যামলী গিগ কর্মী, অ্যাসিড এটাক ভিক্টিম থেকে সার্ভাইভার হবার লড়াই করে যায়। শতভিষা এয়ারফোর্সে আছে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফেরাতে গিয়ে কোনো এক মাধবীর সন্ধান পায় সে। এই মেয়েদের বসন্ত যাপনের গল্প যা কিনা শ্রেণিভেদে সমান্তরাল হবার কথা ছিলো তা মিলে যায় কোনও অপ্রত্যাশিত প্রতিচ্ছেদে। এই নিয়ে গীতি-কবিতা আলেখ্য মধুর বসন্ত, সেই সমস্ত মেয়েদের জন্য, যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া। কথনের কিছু অংশ রইল এখানে।

  • শুধু তোমার জন্য ব্যানার

    শুধু তোমার জন্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 26 সেপ্টেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 29 মিনিট 16 সেকেন্ড

    আসিফা ফেরারী জীবনের শেষ রাতে জ্বরের ঘোরে এক তেঁতুল গাছের সঙ্গে গল্প করছিল। সে গল্পে দেবদাস আছে, বিদ্যাপতি আছেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত আছে, আর আছে এক প্রেমের গল্প - তোমাকে চাই। সেসব নিয়েই শ্রুতিনাটক শুধু তোমার জন্য, আসিফা ট্রিলজির দ্বিতীয় অংশ।এর শুরুতে আছে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে শ্রুতিনাটক দেবদাস পাঠ অভিনয়। আর ক্লাইম্যাক্সে আছে ও’হেনরীর “A Service of Love” গল্পের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত শ্রুতিনাটক “তোমাকে চাই।”

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩ - বাঘা যতীন

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩

    বাঘা যতীন

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 21 মিনিট 38 সেকেন্ড

    1915 সালে নয়ই সেপ্টেম্বর যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন পাঁচজন সহযোদ্ধা নিয়ে তিনশো ইংরেজ সৈন্যর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। সেই সৈন্যবাহিনীতে টেগার্ট নিজেও ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের তরফে। টেগার্টের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।